পটুয়াখালীর আবাসন প্রকল্পের ঘরগুলো সংস্কারের অভাবে জরাজীর্ণ
দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে পটুয়াখালী জেলার বিভিন্ন আবাসন ও আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলো জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। এতে জেলার ৭৪টি প্রকল্পের হাজারো গৃহহীন ও অসহায় পরিবার তীব্র দুর্ভোগের মুখোমুখি হয়েছেন।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

পটুয়াখালী জেলার বিভিন্ন আবাসন ও আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলো দীর্ঘ দিন ধরে সংস্কার না করায় বেহাল ও জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এই জনপদের ঘরগুলো ধীরে ধীরে বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে, যার ফলে চরম বিপাকে পড়েছেন এসব প্রকল্পের বাসিন্দারা।
এই সামগ্রিক পরিস্থিতির শিকার জেলার ৭৪টি আবাসন প্রকল্পের হাজারো গৃহহীন ও অসহায় পরিবার। দীর্ঘদিন ধরে কোনো ধরনের সংস্কার কাজ না হওয়ায় এসব প্রকল্পের ঘরগুলোর অবকাঠামো ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে এবং বাসিন্দারা প্রতিনিয়ত নানা দুর্ভোগের মুখোমুখি হচ্ছেন।
পটুয়াখালী সদর উপজেলার পশ্চিম কালিকাপুর আবাসন প্রকল্পে এমন এক বাস্তবতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন ৮৫ বছর বয়সী রাবেয়া বেগম। নদীভাঙনে নিজের সর্বস্ব হারিয়ে এবং ভিটেমাটি বিচ্যুত হয়ে তিনি ২০০৩ সালে এই আবাসন প্রকল্পে ঠাঁই পেয়েছিলেন।
দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে এই আশ্রয়ে বসবাস করলেও বর্তমানে বার্ধক্যের এসে চরম কষ্ট পোহাতে হচ্ছে তাঁকে। বিশেষ করে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরের ভগ্নদশার কারণে তাঁর দৈনন্দিন জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।
রাবেয়া বেগমের ঘরের টিনের চালায় মরিচা ধরে বড় বড় ছিদ্রের সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে সামান্য বৃষ্টি হলেই ঘরের ভেতর হু হু করে পানি প্রবেশ করে এবং তাঁর বসার ও শোয়ার স্থান ভিজে যায়।
বৃষ্টির দিনে এই পানিনিরোধকহীন ঘরে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়ে। সামান্য বর্ষণেই রাবেয়া বেগমসহ অন্যান্য বাসিন্দাদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছায় এবং তাদের রাত কাটায় চরম উৎকণ্ঠা ও ভেজা পরিবেশে।
জেলার ৭৪টি আবাসন প্রকল্পের হাজারো গৃহহীন মানুষের এই দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও দীর্ঘসূত্রতার কারণে এই অসহায় মানুষগুলো মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন।








