পঞ্চগড়ে দুর্বল শিক্ষার্থীদের টিসি দেওয়ার অভিযোগ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে
পঞ্চগড় সদর উপজেলার যতনপুকুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মঞ্জুআরা বেগমের বিরুদ্ধে পড়ালেখায় দুর্বল শিক্ষার্থীদের টিসি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী অভিভাবকরা।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

পঞ্চগড় সদর উপজেলার যতনপুকুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মঞ্জুআরা বেগমের বিরুদ্ধে পড়ালেখায় দুর্বল শিক্ষার্থীদের সঠিকভাবে না পড়িয়ে জোরপূর্বক ছাড়পত্র বা টিসি দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার প্রতিকার চেয়ে ভুক্তভোগী অভিভাবকদের পক্ষ থেকে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের নিকট একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়টি বর্তমানে প্রশাসনিক তদন্তের অধীনে রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে ভুক্তভোগী অভিভাবক সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, তিনি একজন গরিব মানুষ এবং তার ছেলের মেধাশক্তি একটু কম। ছেলে ক্লাসে ভালো পড়তে না পারায় প্রধান শিক্ষক তাকে স্কুলে রাখবেন না বলে পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন। অনেক অনুরোধ করা সত্ত্বেও প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকে কোনো ধরনের সহানুভূতি পাওয়া যায়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি আরও বলেন, তারপরও ছেলেকে স্কুলে পাঠালে প্রধান শিক্ষক তাকে টিফিন না দেওয়া এবং উপবৃত্তি বাতিল করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন।
আরেক অভিভাবক আশাদুল ইসলাম জানান, তার ছেলে পড়ালেখায় দুর্বল হওয়ার কারণে নাকি স্কুলের সম্মান নষ্ট হবে—এমন কথা বলে তাকে স্কুল থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। কোনো উপায় খুঁজে না পেয়ে তিনি বাধ্য হয়ে তার ছেলেকে দূরের অন্য একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি করিয়েছেন। এই শিক্ষার্থীর নাম মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, যাকে পরবর্তীতে শেখপাড়া ডাঙ্গাবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করা হয়েছে।
এদিকে শেখপাড়া ডাঙ্গাবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এই বিষয়ে মন্তব্য করে বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা সবার জন্য সম্পূর্ণ বাধ্যতামূলক। ক্লাসে কেউ কম পারফর্ম করবে আর কেউ বেশি করবে এটাই স্বাভাবিক। শিক্ষকদের মূল দায়িত্ব হলো যারা পড়ালেখায় কিছুটা পিছিয়ে আছে, তাদের বিশেষ যত্নে শিখিয়ে নেওয়া।
অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মঞ্জুআরা বেগম তার বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, যেসব শিক্ষার্থীর বিষয়ে মূলত কথা বলা হচ্ছে, তারা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেনি। আর পরীক্ষায় পাস না করার কারণেই তিনি তাদের পরবর্তী ক্লাসে প্রমোশন দেননি। পরবর্তী সময়ে অভিভাবকরা নিজেরাই এসে তাকে বলেছেন যে পাস না করালে যেন টিসি দিয়ে দেওয়া হয়, সে অনুযায়ীই তিনি টিসি দিয়েছেন। তবে কাউকে কোনো ধরনের হুমকি দিয়েছেন কি না, এমন কোনো বিষয় কেউ প্রমাণ করতে পারবে না বলে তিনি দাবি করেন।
অন্যদিকে মমিনুল ইসলাম এই বিষয়ে বলেন, মূলত শৃঙ্খলা বিরোধী কোনো ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়ালে তবেই নিয়ম অনুযায়ী টিসি বা ছাড়পত্র দেওয়া হয়ে থাকে। তবে পড়াশোনায় কোনো শিক্ষার্থী দুর্বল হওয়াটা কখনোই এর আওতাভুক্ত বা এর মধ্যে পড়ে না।
ঘটনাটির সত্যতা উদঘাটনে ইতোমধ্যে প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এই অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে সদর উপজেলার সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জোতিষ্ময় রায় জানান, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মহোদয় তাকে এই ঘটনার তদন্তের দায়িত্ব প্রদান করেছেন এবং বর্তমানে এই তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।








