কুয়েত প্রবাসীর স্ত্রী ও টাকা-স্বর্ণালংকার নিয়ে পলায়নের অভিযোগ
কুয়েত প্রবাসী মোঃ লুৎফর রহমানের স্ত্রী হাফসা বেগমকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকারসহ নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে আইনজীবী ও স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা নয়ন মোল্লার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রবাসী লুৎফর রহমান নরসিংদী মডেল থানাসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১৩· ১ মিনিট পড়া

নরসিংদীতে কুয়েত প্রবাসীর স্ত্রী ও তাঁর সঙ্গে থাকা নগদ টাকা এবং স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি একজন আইনজীবী ও স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা। ২৪ আগস্ট ২০২৬ তারিখে নরসিংদীতে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। প্রবাসীর সংসার ছেড়ে যাওয়ার সময় ওই নারীর সঙ্গে তাঁদের দুটি সন্তানও ছিল, যাদের মধ্যে একজন ১১ বছর বয়সী ছেলে এবং অপরজন ৮ মাস বয়সী মেয়ে।
এই ঘটনায় ভুক্তভোগী কুয়েত প্রবাসী মোঃ লুৎফর রহমান নরসিংদী মডেল থানা, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, জেলা আইনজীবী সমিতি এবং বাংলাদেশ বার কাউন্সিল বরাবর নয়ন মোল্লার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। প্রবাসী লুৎফর রহমানের অভিযোগ, তাঁর স্ত্রী হাফসা বেগমকে ফুসলিয়ে হরণ করে নিয়ে গেছেন অভিযুক্ত নয়ন মোল্লা। প্রবাসে থেকে তাঁর দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের অর্জিত সব সম্পদ এভাবে বেদখল হওয়ায় তিনি চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসী মোঃ লুৎফর রহমান নরসিংদী প্রেস ক্লাবে গণমাধ্যমের সামনে তাঁর ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, প্রবাসে থেকে তাঁর দীর্ঘ দিনের পরিশ্রমের ১ কোটি ১০ লাখ নগদ টাকা এবং ৩৫ ভরি স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নিয়ে এখন উধাও হয়েছেন অভিযুক্ত ব্যক্তি। তিনি আরও বলেন, কোর্ট এবং আইনজীবীরা হলেন সাধারণ মানুষের আস্থার জায়গা। আর সেই আইনজীবীই যদি হয় প্রতারক, লোভী, তাহলে মানুষ কোথায় বিচার পাবে। তাঁর স্ত্রীকে এভাবে ফুসলিয়ে হরণ করে নিয়ে যাবে, এমন একটা কাজ একজন আইনজীবী কীভাবে করে। তিনি দেশবাসীর কাছে এর ন্যায় বিচার দাবি করেছেন।
ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত নয়ন মোল্লার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি তাঁর বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা এই অভিযোগ পুরোটাই বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। এ ছাড়াও তিনি দাবি করেন যে, তিনি বর্তমানে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নেই।
এদিকে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নরসিংদী জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ্যাড. আব্দুল মান্নান ভূইয়া। তিনি জানান, এ বিষয়ে অভিযোগ পাওয়ার কথা তাঁরা স্বীকার করেছেন এবং তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বহিস্কারের মতো সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ঘটনার পর থেকেই এলাকায় প্রবাসীর পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা চলছে। প্রবাসী লুৎফর রহমান তাঁর কষ্টার্জিত অর্থ ও স্বর্ণালংকার উদ্ধার এবং এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে জোর দাবি জানিয়েছেন। নরসিংদী জজ কোর্ট এলাকার সংশ্লিষ্ট মহলগুলোতেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
প্রবাসীর দায়ের করা লিখিত অভিযোগগুলোর ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করবে বলে জানা গেছে। এম আর আল মামুনসহ স্থানীয় বিভিন্ন মহলের নজর এখন নরসিংদী মডেল থানা এবং জেলা আইনজীবী সমিতির পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে রয়েছে।








