নোয়াখালীতে তিন বন্ধু হত্যায় তিনজনের ফাঁসি, তিনজনের যাবজ্জীবন
২০১৬ সালে কুকুর গোসল করানোকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে নোয়াখালীর মাইজদী শহরে তিন বন্ধুকে ডেকে নিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়। আজ রোববার নোয়াখালীর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড ও তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

নোয়াখালীতে আলোচিত তিন বন্ধু হত্যা মামলায় তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড ও তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আজ রোববার মাইজদী শহরে অবস্থিত নোয়াখালীর বিশেষ জজ (জেলা ও দায়রা জজ) আদালতে এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। ২০১৬ সালের ওই ঘটনায় বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আজ এই রায় দেন আদালত।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০১৬ সালে কুকুরকে পুকুরে গোসল করানোকে কেন্দ্র করে ঝামেলার সূত্রপাত হয়। এই বিরোধের জেরে নোয়াখালীর মাইজদী শহরে তিন বন্ধুকে ডেকে নিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল। নিহত তিন বন্ধু হলেন ফজলে হুদা, মো. ওয়াসিম ও মো. ইয়াছিন। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সমগ্র এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছিল।
আজ রোববার নোয়াখালীর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. শওকত আলী এই মামলার রায় ঘোষণা করেন। বিচারকার্য পরিচালনা করেন বিচারক মো. শওকত আলী। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত এই রায় দেন। মামলার রায়ে আদালত তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং অপর তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেছেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন ওমর নাসির সাজু (৩২), ওমর শরীফ সুলতান (২৫) এবং মো. সৌরভ (২৭)। আদালত দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় তাঁদের প্রত্যেককে মৃত্যুদণ্ড ও ১ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড প্রদান করেছেন। এই তিনজন ছাড়াও মামলায় আরও তিনজনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন ফিরোজ মাহমুদ (২৭), কুদরত উল্যাহ (৬৫) এবং হারুনুর রশীদ (৪৫)। আদালত এই তিনজনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দিয়েছেন। রায়ে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, নির্ধারিত অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাঁদের প্রত্যেককে আরও এক বছর সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
মামলার বিচার প্রক্রিয়ায় অপর দুই আসামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। ফলে আদালত অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় দুই আসামিকে খালাস দিয়েছেন। এই রায়ের মধ্য দিয়ে ২০১৬ সালে সংঘটিত আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের বিচারিক কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন হলো।








