নেপালে পাহাড়ি ঢল: প্রধান শিক্ষকের বুদ্ধিমত্তায় বাঁচল ৯০০ শিক্ষার্থী
নেপালের নুয়াকোট জেলায় পাহাড়ি ঢল ও কাদা-ধ্বংসস্তূপে সবকিছু ভেসে যাওয়ার সময় এক প্রধান শিক্ষকের দ্রুত সিদ্ধান্তে রক্ষা পেয়েছে ৯০০ শিক্ষার্থীর প্রাণ। ২৭ আগস্ট ঘটা এই ঘটনায় দেশটিতে এখন পর্যন্ত অন্তত ৯০৩ জনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

নেপালের নুয়াকোট জেলার ত্রিশূলী এলাকায় গত ২৭ আগস্ট এক ভয়াবহ পাহাড়ি ঢল ও কাদা-ধ্বংসস্তূপের ঘটনা ঘটে। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে মুহূর্তের মধ্যে ঘরবাড়িসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা মাটির নিচে ঢাকা পড়ে যায় এবং চারদিক জলমগ্ন হয়ে পড়ে।
এই ভয়ংকর পরিস্থিতির ঠিক আগমুহূর্তে ত্রিভুবন ত্রিশূলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাজেন্দ্র দাওয়াদি একটি গুরুত্বপূর্ণ ফোনকল পান। ফোন পেয়ে তিনি বিন্দুমাত্র দেরি না করে অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে একটি জীবনরক্ষাকারী সিদ্ধান্ত নেন। তার এই তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে বিদ্যালয়টির ৯০০ শিক্ষার্থীর জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে প্রধান শিক্ষক রাজেন্দ্র দাওয়াদি বিবিসি, রয়টার্স ও এএফপি-কে বলেন, "আমরা দ্রুত সিদ্ধান্ত না নিলে কিংবা আর ১০ মিনিট দেরি হলে আমিসহ শিক্ষার্থীদের কেউই আপনার সঙ্গে কথা বলতে পারত না।" তিনি আরও বলেন, "আমি আর দেরি না করার সিদ্ধান্ত নিই। এমনকি ঢল না এলেও সর্বোচ্চ এক দিনের ক্লাসই হয়তো নষ্ট হতো। এত মানুষের জীবন বাঁচাতে পেরেছি, এর জন্য আমি গর্বিত।" নদী থেকে প্রায় ১০০ মিটার দূরে অবস্থিত এই বিদ্যালয়টিতে এই ঘটনা ঘটে বুধবার সকাল ৯টা ১০ মিনিটে।
দুর্যোগের সময় এক উদ্বিগ্ন অভিভাবক যুবরাজ আমাত্য স্কুলে ছুটে আসেন। তিনি বলেন, "বড় বন্যা ধেয়ে আসছে। আমি আমার মেয়েকে নিয়ে যেতে এসেছি।" ঢলের খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই তিনি মেয়ের ফোনে কল দিলেও প্রথমে পাচ্ছিলেন না। ভীষণ ভয় পেয়ে যান এবং কয়েক মিনিটের মধ্যেই মেয়ের স্কুলের দিকে ছুটে যান। তিনি জানান, গিয়ে দেখেন ত্রিশূলী বাজার পুরোপুরি ভেসে গেছে এবং তখন মনে হয়েছিল তার মেয়ে হয়তো আর বেঁচে নেই। তিনি খুব আতঙ্কিত হয়ে স্কুটার থামিয়ে ফেলেন। চারদিকে পানি থাকলেও মেয়েকে ছাড়া ফিরে যাওয়ার কথা তিনি ভাবতেই পারেননি।
শেষ পর্যন্ত মেয়ের সঙ্গে যোগাযোগের স্মৃতিচারণ করে যুবরাজ আমাত্য বলেন, "শেষ পর্যন্ত আমার মেয়ে ফোন ধরল। আমি নিজেকে সামলাতে পারিনি, কেঁদে ফেলি। সঙ্গে থাকা দুজন আত্মীয়ও কাঁদতে কাঁদতে আমাকে জড়িয়ে ধরেন।"
বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থী ইউনিশা আমাত্য বিভীষিকাময় সেই মুহূর্তের কথা স্মরণ করে জানায়, "মাত্র ১০ সেকেন্ডের জন্য আমি আর আমার বন্ধুরা প্রাণে বেঁচে গেছি।" আরেক শিক্ষক সাবিনা কুমারী শ্রেষ্ঠাও এই আকস্মিক পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের সুরক্ষায় প্রধান শিক্ষককে সহায়তা করেন।
উল্লেখ্য, নেপালে আঘাত হানা এই পাহাড়ি ঢলের তাণ্ডবে পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে দেশটিতে এখন পর্যন্ত অন্তত ৯০৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৪ হাজার ২৪৭ জন মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছে।








