মূল কনটেন্টে যান
ব্রেকিং
বিডিরিভাইস২৪-এ স্বাগতম — দেশের খবর, নির্ভরযোগ্য উৎসে
BDRevise24 — দেশের খবর, নির্ভরযোগ্য উৎসে

বিজ্ঞাপন

আপনার বিজ্ঞাপন এখানে — HEADER

নেত্রকোণার দুর্গাপুর ও কলমাকান্দায় সুপেয় পানির সংকট

নেত্রকোণার দুর্গাপুর ও কলমাকান্দার পাহাড়ি এলাকায় শুষ্ক মৌসুমে পানির উৎস শুকিয়ে যাওয়া এবং বর্ষায় পানি অনিরাপদ হয়ে পড়ার কারণে দীর্ঘস্থায়ী পানির সংকট রয়েছে। গারো, হাজংসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রায় ২১ হাজার ৬০৫ মানুষ এই সংকটের মুখোমুখি হচ্ছেন।

বিডিরিভাইস২৪ ডেস্ক

প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

নেত্রকোণার দুর্গাপুর ও কলমাকান্দায় সুপেয় পানির সংকট

বিজ্ঞাপন

আপনার বিজ্ঞাপন এখানে — ARTICLE_TOP

নেত্রকোণা জেলার দুর্গাপুর ও কলমাকান্দা উপজেলার পাহাড়ি এলাকায় সুপেয় পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এই এলাকার দুর্গম পাহাড়ি জনপদে শুষ্ক মৌসুমে পানির উৎস শুকিয়ে যাওয়া এবং বর্ষায় পানি অনিরাপদ হয়ে পড়ার কারণে দীর্ঘস্থায়ী পানির সংকট বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দৈনন্দিন জীবনে এই সংকট বড় ধরনের ভোগান্তির সৃষ্টি করেছে।

দুর্গাপুর ও কলমাকান্দার পাহাড়ি এই জনপদে গারো, হাজংসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রায় ২১ হাজার ৬০৫ মানুষের বসবাস রয়েছে। পাহাড়ি ভূপ্রকৃতির কারণে এখানকার মানুষের জীবনযাত্রায় সুপেয় পানির অভাব একটি পুরোনো ও বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আসছে। নিরাপদ পানি সংগ্রহ করাটাই এখানকার অনেক পরিবারের প্রতিদিনের বড় কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা রিনা হাজং এই পানির সংকটের বিষয়ে বলেন, শুষ্ক মৌসুমে তাদের সবচেয়ে বেশি কষ্ট হয়। বাড়ির আশপাশের কূপ ও ছড়ার পানি শুকিয়ে যায় এবং নলকূপেও ঠিকমতো পানি ওঠে না। তখন খাবার পানি আনতে অনেক দূরে যেতে হয়। একবারে যতটুকু পানি আনা যায়, তাতে সংসারের প্রয়োজন মেটে না। তাই দিনে কয়েকবার পানি আনতে হয় এবং পরিবারের নারীরাই মূলত এ কাজ করে, ফলে ঘরের অন্য কাজে সমস্যা হয়।

রিনা হাজং আরও জানান, কোথাও নলকূপে পানি মিললেও অতিরিক্ত আয়রনের কারণে তা ব্যবহারে চরম ভোগান্তি রয়েছে। ফলে নিরাপদ পানি সংগ্রহ করার বিষয়টি তাদের দৈনন্দিন জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। পাহাড়ি এলাকার এই প্রাকৃতিক প্রতিকূলতায় নারীদের দুর্ভোগ দিন দিন বেড়েই চলেছে।

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা দুর্গাদেবী হাজং বর্ষাকালের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে জানান, বর্ষায় তাদের চারপাশে পানি থাকলেও সেই পানি পান করার কোনো উপায় থাকে না। একটু বেশি বৃষ্টি হলে কূপের পানি ঢলের পানিতে ডুবে যায় এবং ময়লা, কাদা ও পলি মিশে পানি ঘোলা হয়ে যায়। তখন তারা বৃষ্টির পানি ধরে রাখার চেষ্টা করলেও সব সময় পর্যাপ্ত পানি সংরক্ষণ করা সম্ভব হয় না। ঢল নেমে যাওয়ার পরও কয়েকদিন কূপের পানি ব্যবহার করা যায় না এবং তখন দূর থেকে নিরাপদ পানি সংগ্রহ করতে হয়।

এই পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়ে নেত্রকোণা জেলা সদর হাসপাতালের ডা. মাজহারুল আমীন ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের মো. নায়েব আলী খানের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন। ডা. মাজহারুল আমীন জানান, বন্যা বা অন্য কোনো কারণে সুপেয় পানির সংকট দেখা দিলে পানি ফুটিয়ে অথবা পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ব্যবহার করে পান করা উচিত। বিশেষ করে পাহাড়ি ঢলের পর পানির উৎস দূষিত হলে এ বিষয়ে সতর্ক থাকা অত্যন্ত জরুরি। দূষিত পানি ব্যবহারে ডায়রিয়া, কলেরা, টাইফয়েড, হেপাটাইটিস এ-সহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়ে।

অন্যদিকে, এই সংকট নিরসনে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, পাহাড়ি এলাকায় সুপেয় পানির সংকট মোকাবিলায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ইতোমধ্যে ৫২০ ফুট গভীর ৪০টি নলকূপ স্থাপন করেছে। এছাড়া এলাকার মানুষের পানির চাহিদা পূরণে আরও কিছু নলকূপ স্থাপনের প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে।

তথ্যসূত্র: রাইজিংবিডি

বিজ্ঞাপন

আপনার বিজ্ঞাপন এখানে — IN_ARTICLE

আপনার প্রতিক্রিয়া

মন্তব্য

মডারেশনের পর প্রকাশিত হবে।

সম্পর্কিত খবর

সব দেখুন
সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন-ভাতার প্রজ্ঞাপন জারি ব্রেকিং
বাংলাদেশ

সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন-ভাতার প্রজ্ঞাপন জারি

সরকার সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন-ভাতার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। অর্থ বিভাগ শনিবার ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’ নামে এই প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

১ মিনিট পড়া
দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটের ৭ নম্বর ফেরিঘাট বন্ধ
বাংলাদেশ

দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটের ৭ নম্বর ফেরিঘাট বন্ধ

নদীতে প্রবল স্রোত ও নাব্য সংকটের কারণে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া প্রান্তের ৭ নম্বর ফেরিঘাট বন্ধ রয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত থেকে শনিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ফেরি ভিড়তে না পারায় এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।

১ মিনিট পড়া
রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে চিকিৎসকদের সময়মতো উপস্থিতির কড়া নির্দেশ
বাংলাদেশ

রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে চিকিৎসকদের সময়মতো উপস্থিতির কড়া নির্দেশ

রাজবাড়ীর ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসকদের যথাসময়ে উপস্থিতি ও দায়িত্ব পালন নিশ্চিত করতে কঠোর নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। গত ১৭ সেপ্টেম্বর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়। নিয়ম না মানলে শোকজ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

১ মিনিট পড়া

বিজ্ঞাপন

আপনার বিজ্ঞাপন এখানে — FOOTER