নারী কর্মীদের সরিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে আইফেল টাওয়ার বন্ধ
ফ্রান্সের প্যারিসের বিখ্যাত স্থাপনা আইফেল টাওয়ারে হিন্দু ধর্মীয় গোষ্ঠী বিএপিএসের পরিদর্শনের সময় নারী কর্মীদের দায়িত্ব থেকে সরে যেতে বলার প্রতিবাদে ধর্মঘট পালন করা হয়। সোমবার টাওয়ারটি বন্ধ থাকার পর মঙ্গলবার তা পুনরায় খুলে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো দুঃখ প্রকাশ করেছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

গত সোমবার ফ্রান্সের প্যারিসের বিশ্বখ্যাত স্থাপনা আইফেল টাওয়ার দর্শনার্থীদের জন্য সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। হিন্দু ধর্মীয় গোষ্ঠী বোচাসনবাসী অক্ষর পুরুষোত্তম স্বামীনারায়ণ সংস্থার (বিএপিএস) সদস্যদের পরিদর্শনের সময় নারী কর্মীদের তাঁদের কর্মস্থল বা আড়ালে থাকতে বা দায়িত্ব থেকে সরে যেতে বলা হয়েছিল। এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদে আইফেল টাওয়ারের কর্মীরা ধর্মঘট পালন করেন, যার ফলে ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। প্রতিবছর আইফেল টাওয়ার দেখতে প্রায় ৭০ লাখ দর্শনার্থী আসেন, যা বিশ্বের পর্যটন মানচিত্রে এটিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।
ঘটনাটির সূত্রপাত গত শনিবার, যখন বিএপিএস-এর প্রায় ১০০ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল আইফেল টাওয়ার পরিদর্শনে যায়। ওই সময় ঘটে যাওয়া অপ্রীতিকর পরিস্থিতির বিবরণ দিয়ে দিয়েন দাভোয়েন জানান, প্রতিনিধিদলটি যখন সেখান দিয়ে যাচ্ছিল, তখন নারী কর্মীদের তাঁদের কর্মস্থল ছেড়ে দিতে বলা হয়েছিল, যাতে তাঁদের জায়গায় পুরুষেরা দায়িত্ব নিতে পারেন। ফরাসি সংবাদমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপি ও রয়টার্সের প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
এই ঘটনার প্রতিবাদে ফরাসি রাজনৈতিক অঙ্গনেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির তৎকালীন বা সংশ্লিষ্ট দায়িত্বে থাকা ইয়ায়েল ব্রাউন-পিভে এই ঘটনার কঠোর সমালোচনা করে বলেন, অন্যদের স্বাগত জানানো মানে কখনোই আমাদের মূল্যবোধ বিসর্জন দেওয়া নয়। ফ্রান্সে নারীরা জনজীবনে পুরোপুরি সক্রিয়। কেউ তাঁদের অদৃশ্য হয়ে যেতে বলতে পারে না। এছাড়া এই ঘটনায় অ্যারিয়েল ওয়েইল ও এমানুয়েল গ্রেগোয়ারের মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
নারী কর্মীদের সরিয়ে দেওয়ার এই ঘটনা ফ্রান্সে ব্যাপক আলোড়ন তোলে এবং এর প্রতিবাদে কর্মীরা কাজ বন্ধ রেখে ধর্মঘটে অংশ নেন। আইফেল টাওয়ারের পরিচালনা প্রতিষ্ঠান এসইটিই এবং অভিযুক্ত ধর্মীয় গোষ্ঠী বিএপিএস উভয় পক্ষই এই অনভিপ্রেত ঘটনার বিষয়ে পরবর্তীতে দুঃখ প্রকাশ করেছে। সংশ্লিষ্ট মহলের এমন ভূমিকার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
কর্মীদের এই জোরালো প্রতিবাদ ও ধর্মঘটের পর অবশেষে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। ঘটনার পরের দিন অর্থাৎ মঙ্গলবার ঐতিহাসিক আইফেল টাওয়ারটি পুনরায় দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। বিশ্বজুড়ে সমাদৃত এই পর্যটন কেন্দ্রে ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেই বিষয়টি নিয়েও এখন জোর আলোচনা চলছে।








