নতুন আয়কর আইনের ৫ শতাংশ রিবেট বা ছাড় নিয়ে দেখা দিয়েছে জটিলতা
২০২৪ সালে বাংলাদেশের নতুন অর্থম আইনে করের বিপরীতে ৫ শতাংশ বা সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ছাড়ের বিধান রাখা হয়েছে। তবে উৎসে কর বা অগ্রিম কর পরিশোধকারী করদাতারা এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

২০২৪ সালে বাংলাদেশে প্রণীত নতুন অর্থম আইনে করদাতাদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আয়কর রিটার্ন জমা দিতে উৎসাহী করার জন্য একটি বিশেষ বিধান রাখা হয়েছে। এই বিধান অনুযায়ী, যদি কোনো করদাতা ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আয়কর রিটার্ন জমা দেন, তবে তাকে প্রদেয় করের ওপর ৫ শতাংশ বা সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ছাড় বা রিবেট দেওয়া হবে।
তবে প্রথম আলো-র তথ্যানুযায়ী, এই ৫ শতাংশ কর ছাড়ের হিসাব পদ্ধতি ও এর কার্যকারিতা নিয়ে কিছু অসঙ্গতি বা জটিলতা প্রকাশ পেয়েছে। আইনটিতে বলা হয়েছে যে, এই রিবেট বা ছাড়টি মূলত মোট বাৎসরিক করের ওপর হিসাব করা হবে না। বরং উৎসে কর কিংবা অগ্রিম কর সমন্বয় করার পর যে বকেয়া বা অবশিষ্ট প্রদেয় কর থাকে, তার ওপর এই ৫ শতাংশ ছাড় প্রযোজ্য হবে।
বিষয়টি পরিষ্কার করার জন্য একটি গাণিতিক উদাহরণ সামনে এসেছে। ধরা যাক, একজন করদাতার বাৎসরিক আয় ১২ লাখ টাকা এবং তার ওপর মোট আয়কর নির্ধারিত হয়েছে ৪৫ হাজার টাকা। এই নিয়মের ফলে সাধারণ করদাতারা কিছুটা সুফল পাওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে এর সুফল পাওয়া নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে।
আইনের বর্তমান কাঠামো অনুযায়ী, যেসব করদাতা সারা বছর ধরে বিভিন্ন উপায়ে উৎসে কর পরিশোধ করেছেন অথবা অগ্রিম কর দিয়ে এসেছেন এবং যাদের কোনো ধরনের বকেয়া কর বাকি নেই, তারা এই ৫ শতাংশ বা সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ছাড়ের সুবিধা থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত হচ্ছেন।
অন্যদিকে, যাদের বকেয়া করের পরিমাণ রয়েছে, শুধুমাত্র তাদের বকেয়া টাকার ওপর ৫ শতাংশ হারে ২ হাজার ২৫০ টাকা করছাড় দেওয়ার বিধান কার্যকর হচ্ছে। অর্থাৎ, যারা নিয়মিত ও অগ্রিম কর পরিশোধ করে সরকারের কোষাগারে আগে থেকেই টাকা জমা দিচ্ছেন, তারা এই প্রণোদনা থেকে বাদ পড়ে যাচ্ছেন।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, করদাতাদের কর প্রদানে আরও বেশি উৎসাহিত করার কথা থাকলেও এই আইনের মারপ্যাঁচের কারণে উল্টো যারা নিয়মিত কর পরিশোধ করেন তারা নিরুৎসাহিত হতে পারেন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে এবং পুরো বিষয়টি নিয়ে আরও স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।








