দার্জিলিং সমস্যার স্থায়ী সমাধানের আশ্বাস অমিত শাহের
ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ গতকাল পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ির সুকনায় দার্জিলিংয়ের রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে তিনি দীর্ঘদিনের সমস্যার স্থায়ী সমাধানের আশ্বাস দেন এবং সমাধানের পথ খুঁজতে একটি কমিটি গঠনের ঘোষণা করেন।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ গতকাল পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ির সুকনা অঞ্চলে দার্জিলিংয়ের রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন। এই বৈঠকে দার্জিলিং অঞ্চলের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সমস্যার স্থায়ী সমাধান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে উপস্থিত দার্জিলিংয়ের বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী খোলামেলা আলোচনা করেন বলে জানা গেছে।
বৈঠক সূত্রে জানা যায়, দার্জিলিংয়ের পাহাড় অঞ্চলের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক জটিলতা নিরসনে কেন্দ্র সরকার আন্তরিক। দীর্ঘকাল ধরে চলে আসা এই সমস্যার কোনো সুনির্দিষ্ট ও স্থায়ী রাজনৈতিক সুরাহা না হওয়ায় স্থানীয় জনগণের মধ্যে যে অসন্তোষ রয়েছে, তা বৈঠকে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়। পাহাড়ি অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়ন ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপরও বৈঠকে বিশেষ জোর দেওয়া হয়।
আলোচনাকালে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দার্জিলিংয়ের দীর্ঘদিনের এই রাজনৈতিক সমস্যার একটি স্থায়ী ও গ্রহণযোগ্য সমাধানের বিষয়ে কড়া আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, কেন্দ্র সরকার পাহাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবির প্রতি সংবেদনশীল এবং একটি স্থায়ী রূপরেখা প্রস্তুত করার মাধ্যমে এই সংকটের অবসান ঘটানো হবে। তার এই আশ্বাসের পর বৈঠকে উপস্থিত রাজনৈতিক মহলে ইতিবাচক আলোচনার পরিবেশ তৈরি হয়।
দার্জিলিং সমস্যার স্থায়ী সমাধানের পথ খুঁজে বের করার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট কমিটি গঠনের কথা জানানো হয়েছে বৈঠকে। এই কমিটিকে স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের দাবি ও বাস্তব পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে একটি কার্যকর পথ বের করার দায়িত্ব দেওয়া হবে। কমিটির কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে পাহাড়ের সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রাখা হবে বলে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
দার্জিলিং সমস্যার সুরাহা খুঁজতে গঠিত এই মধ্যস্থতাকারী কমিটির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিশিষ্ট বিজেপি নেতা ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পঙ্কজ কুমার সিংকে। তিনি সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের পথ অন্বেষণ করবেন। এই প্রক্রিয়ায় দার্জিলিং টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (জিটিএ), সশস্ত্র সীমা বল (এসএসবি), এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও নেতাদের ভূমিকা ও মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, এই সমগ্র রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে দার্জিলিংয়ের বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব যেমন সুভাষ ঘিসিং, বিমল গুরুং এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতির বিষয়গুলোও সামনে এসেছে। সুকনার এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের মধ্য দিয়ে দার্জিলিংয়ের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক রূপরেখা নির্ধারণের ক্ষেত্রে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।








