দখलকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ ও হামলা বৃদ্ধি
দখলকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী ও বাহিনীর তৎপরতা তীব্র আকার ধারণ করেছে। হামলা ও বসতি সম্প্রসারণের ঘটনায় ফিলিস্তিনিদের হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

দখলকৃত ফিলিস্তিনি territories-এর পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী ও বাহিনী কর্তৃক বসতি সম্প্রসারণ, অবকাঠামোগত পরিবর্তন এবং পতাকা প্রদর্শনের প্রচারণা নাটকীয়ভাবে জোরদার করা হয়েছে। ২০২৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ও ৬ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই অঞ্চলজুড়ে ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা ও হতাহতের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে।
আল জাজিরা, এএফপি, বিটসেলেম, কলোনাইজেশন অ্যান্ড ওয়াল রেজিস্ট্যান্স কমিশন, ফিলিস্তিনি রিসার্চ সেন্টার, হিলটপ ইউথ, আনাদোলু এজেন্সি, ওয়াফা এবং প্যালেস্টাইন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলি বাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় এক হাজার একশরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
বিটসেলেমের তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিম তীরে ৬৬তম ফিলিস্তিনি গ্রাম জাতিগতভাবে উচ্ছেদ হয়েছে। এছাড়া ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে নতুন বা অবৈধ বসতি সম্প্রসারণের জন্য ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ১১৩টি কাঠামোগত পরিকল্পনা পর্যালোচনা করেছে। বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ১০৪টি অবৈধ বসতি এবং ১৬০টি সেটেলমেন্ট ফার্ম থাকার কথা গর্বের সাথে উল্লেখ করেছেন। এই কার্যক্রমে বেজালেল স্মোট্রিচ ও ইতামার বেন-গভীরের মতো ব্যক্তিরাও যুক্ত রয়েছেন।
সম্প্রতি কালকিলিয়ার পূর্বে হাজ্জা গ্রামে একটি হামলায় ওমর আল-তৌবাস মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। প্যালেস্টাইন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, তাদের উদ্ধারকর্মীরা হাজ্জার সেই হামলায় আহত তিনজনকে হাসপাতালে স্থানান্তরিত করেছেন। এছাড়া জেরুজালেম গভর্নরেটে ইসরায়েলি দখলদারদের আরেকটি হামলায় এক ফিলিস্তিনি ব্যক্তির হাত ভেঙে যায় এবং চোখ মারাত্মকভাবে আহত হয়।
এই সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয় ফিলিস্তিনিরা তাদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তাঘরিদ ইয়াহইয়া বলেন, এটি এমন এক দৃশ্য তৈরি করে যা বছরের পর বছর ধরে পরিচিত দৃশ্যপটকে বদলে দেয়; এর ফলে স্বাভাবিকভাবেই দুঃখ, রাগ ও ভয়ের পাশাপাশি অসহায়ত্বের অনুভূতি জাগে। তবে একই সাথে এটি ভূমি, স্মৃতি ও পরিচয়ের প্রতি আঁকড়ে থাকার প্রবণতাকেও দৃঢ় করে তোলে।
ফাতেমা আবদুল হাদি জানান, আমি যে ভূগোল চিনতাম, তা বুঝতে না পারার এক বিভ্রান্তির শিকার হয়েছিলাম। রাস্তার সবচেয়ে পরিচিত ল্যান্ডমার্কগুলোতে যে বড় পরিবর্তন এসেছে, তা দেখে মনে হচ্ছিল যেন দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেছে, অথচ এর জন্য দুই মাসেরও কম সময় লেগেছে। তিনি আরও বলেন, এই দৃশ্যটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক: বসতি স্থাপনকারীদের মোবাইল হোম এবং পতাকার দৃশ্য, প্রধান সড়কের পাশে তাদের জমায়েত আমাদের এই সত্যের মুখোমুখি করে যে এই লোকেরা আমাদের অধিকার এবং আমাদের স্বত্ব চুরি করেছে।
খালদুন আল-বারঘৌতি বলেন, তারা যে নিয়ন্ত্রণের জন্য কাজ করছে তা কেবল মাঠপর্যায়ের কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়—যার অর্থ বসতি নির্মাণ, জমি বাজেয়াপ্ত করা এবং ফিলিস্তিনিদের মালিকানাধীন জমির পরিমাণ কমানো—বরং এর লক্ষ্য ফিলিস্তিনিদের মনে তাদের জমিতে নিজেদের অস্তিত্ব সম্পর্কে যে চেতনা রয়েছে, তা চিরতরে মুছে ফেলা।








