দক্ষিণ কোরিয়ার সহকর্মীর সঙ্গে নয় বছরের বন্ধুত্বের স্মৃতি
দক্ষিণ কোরিয়ায় দীর্ঘ নয় বছর কর্মজীবন শেষে দেশে ফিরেছেন এক বাংলাদেশি লেখক। সেখানে প্রথম দিনেই পরিচয় হওয়া সহকর্মী ইয়াং মি রির সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্বের নয় বছর পূর্ণ হয়েছে। নানা স্মৃতি ও আবেগময় কথাবার্তায় এখনও দুই দেশের সীমানা পেরিয়ে টিকে রয়েছে তাদের এই সম্পর্ক।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

দক্ষিণ কোরিয়ায় কাজের উদ্দেশ্যে গিয়ে দীর্ঘ নয় বছর কাটিয়ে সম্প্রতি বাংলাদেশে ফিরেছেন এক বাংলাদেশি লেখক। বর্তমানে তিনি দেশে নিজের ব্যবসা ও পারিবারিক জীবন নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। তবে সুদূর প্রবাসে কাটানো সেই দিনগুলো এবং সেখানকার মানুষের সঙ্গে গড়ে ওঠা সম্পর্ক আজও তাঁর স্মৃতির পাতায় অম্লান হয়ে আছে। বিশেষ করে দক্ষিণ কোরিয়ান সহকর্মী ইয়াং মি রির সঙ্গে তাঁর যে বন্ধুত্বের সূত্রপাত হয়েছিল, তা দুই দেশের ভৌগোলিক দূরত্ব পেরিয়ে এখনও বজায় রয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ায় লেখকের কর্মজীবনের প্রথম দিনটিতেই ইয়াং মি রির সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। কর্মক্ষেত্রের প্রথম সেই দিনে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিয়ে ইয়াং মি রি লেখককে বলেছিলেন, "আজ থেকে তুমি আমার বন্ধু। কোনো সমস্যা হলে আমাকে বলবে। আমরা একসঙ্গে কাজ করব।" সহকর্মীর এমন উষ্ণ অভ্যর্থনা ও আন্তরিকতা প্রবাসের মাটিতে লেখকের পথচলাকে সহজ করে দিয়েছিল এবং জন্ম দিয়েছিল এক গভীর বন্ধুত্বের।
দীর্ঘ নয় বছর কোরিয়ায় একসঙ্গে কাজ করার সুবাদে দুজনের মধ্যে বিশ্বাসের একটি শক্ত ভিত তৈরি হয়। এই দীর্ঘ সময়ে তাদের মধ্যে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানও ঘটেছিল। আড্ডার ছলে ইয়াং মি রি একবার বাংলাদেশের প্রতি নিজের আগ্রহের কথা প্রকাশ করে বলেছিলেন, "আমি একদিন বাংলাদেশে যাব। তোমাদের দেশের সেই বড় মাছ খেয়ে দেখব।" এমন ছোট ছোট প্রাত্যহিক আলাপচারিতা তাদের বন্ধুত্বের বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে তুলেছিল।
তবে প্রবাস জীবনের পাট চুকিয়ে লেখকের দেশে ফিরে আসার সময়টি উভয়ের জন্যই অত্যন্ত আবেগঘন ছিল। যখন লেখকের দেশে ফেরার সময় ঘনিয়ে আসে, তখন কান্নায় ভেঙে পড়ে ইয়াং মি রি তাঁকে উদ্দেশ করে বলেছিলেন, "তুমি চলে গেলে তোমার শূন্যতা আমি কীভাবে সহ্য করব?" এই বিদায়লগ্নের আকুতি তাদের নয় বছরের সম্পর্কের গভীরতাকেই স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।
বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়া—এই দুই ভিন্ন দেশের দূরত্ব তাদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করতে পারেনি। দেশ ফিরে আসার পরও লেখক ও ইয়াং মি রির মধ্যে মাঝেমধ্যে যোগাযোগ হয়। সুদূর কোরিয়া থেকে ইয়াং মি রি এখনও লেখককে স্মরণ করে বলেন, "আমি তোমাকে সত্যিই খুব মিস করি।"
নয় বছরের এই দীর্ঘ বন্ধুত্বের ইতি টানার কোনো সুযোগ নেই। শত মাইল দূর থেকেও ইয়াং মি রির মন থেকে মুছে যায়নি সেই প্রিয় সহকর্মীর স্মৃতি। বিদায় ও স্মৃতির টানে আজও তাদের যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে এবং ইয়াং মি রির সেই অন্তিম উচ্চারণ যেন দুই দেশের বন্ধুত্বের সেতু হয়ে আজও প্রতিধ্বনিত হয়—"ভালোবাসি...আবার ফিরে এসো।"








