তারেক রহমানের সরকারের ছয় মাস: বিভিন্ন খাতের অগ্রগতি পর্যালোচনা
তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের ছয় মাস পূর্তি উপলক্ষে বিভিন্ন খাতের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়েছে। এই সময়ে জ্বালানি, পরিবেশ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে নানা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার সফলভাবে তাদের কার্যversal বা কার্যক্রমের ছয় মাস পার করেছে। ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে ঢাকায় এই সরকারের প্রথম ছয় মাসের কার্যক্রম এবং বিভিন্ন খাতের অগ্রগতি আনুষ্ঠানিকভাবে পর্যালোচনা করা হয়। এই সময়ের মধ্যে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, পরিবেশ সুরক্ষা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে বেশ কিছু যুগান্তকারী পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
বর্তমান সরকারের জ্বালানি খাতে বহুমুখী চ্যালেঞ্জ ও অর্জনের চিত্র উঠে এসেছে। মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি তেলের দাম প্রায় ৩৩ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে বিশ্ববাজারে অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়। এর প্রভাবে বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম প্রায় ১০ শতাংশের কাছাকাছি বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সংকট মোকাবিলায় সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর বিশেষ জোর দিয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে দেশে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে সরকারের প্রথম ১৮০ দিনে ২০০ মেগাওয়াট নতুন সৌরবিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে। এ ছাড়া বিশ্বব্যাংক-সহায়িত প্রকল্পের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে আরও ৩৩৮ মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ যুক্ত হয়েছে, যা থেকে বছরে প্রায় ৩ দশমিক ৭৭ লাখ টন কার্বন নিঃসরণ হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি আমিনবাজারে দৈনিক প্রায় তিন হাজার টন বর্জ্য ব্যবহার করে ৪২ দশমিক ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।
পরিবেশ ও অবকাঠামো উন্নয়নে সরকার ব্যাপক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে। একনেক সভায় ৩৪ হাজার ৪৯৭ দশমিক ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘পদ্মা ব্যারাজ (প্রথম পর্যায়)’ প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের বিশাল কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ইতিমধ্যে প্রায় ২ হাজার ১৬৫ কিলোমিটার খাল খনন বা পুনঃখনন সম্পন্ন হয়েছে। বনায়ন বাড়াতে পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২০২৬ সালের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫ কোটি ১৪ লাখ ৮৮ হাজার ৯৩০টি চারা রোপণ। সরকারের প্রথম ১৮০ দিনেই সারাদেশে ২ কোটি ২২ লাখ ৬৮ হাজার চারা রোপণ করা সম্ভব হয়েছে। এদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ১ হাজার ৫৭টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১২ হাজারের বেশি মানুষ নিরাপদে আশ্রয় নেন।
শিক্ষা খাতে বড় ধরনের আর্থিক বরাদ্দ ও সংস্কার আনা হয়েছে। এই খাতে মোট ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা আগের তুলনায় ৫৬ দশমিক ৬ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং বর্তমানে শিক্ষায় বরাদ্দ দেশের মোট জিডিপির ২ শতাংশ। ডিজিটাল বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় দেশের ৬৫ হাজার ৫৬৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সহায়তার জন্য প্রথম কিস্তিতে ৭৪ লাখ ১০ হাজার ৫৭৯ জন এবং দ্বিতীয় কিস্তিতে ৬৬ লাখ ৭০ হাজার ২৭৩ জন শিক্ষার্থীর অভিভাবকের মোবাইল অ্যাকাউন্টে সর্বমোট ১ হাজার ১৮১ দশমিক ৪৪ কোটি টাকা উপবৃত্তি প্রদান করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য ও সামাজিক কল্যাণ খাতেও সরকারের উল্লেখযোগ্য অর্জন রয়েছে। স্বাস্থ্য খাতে ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা দেশের জিডিপির ১ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ। স্বাস্থ্যসেবা তৃণমূলে পৌঁছে দিতে সারা দেশে ১ লাখ নতুন স্বাস্থ্যসেবাকর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যাদের মধ্যে ৮০ শতাংশই নারী। ধর্মীয় নেতা ও সেবাকর্মীদের সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনতে পাইলটিং পর্যায়ে ১৩ হাজার ৯৪৯ জনকে ভাতা দেওয়া হয়েছে। সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৮৬ হাজার ৭০৯টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ২ লাখ ৫৬ হাজার ৭৪ জন ধর্মীয় নেতা ও সেবাকর্মীকে ভাতার আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং এর জন্য ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।








