ঢাক ও চট্টগ্রামে কাস্টমস গোয়েন্দার অভিযানে ৯৭ লাখ টাকার মাল জব্দ
হযরত শাহজালাল ও শাহ আমানত বিমানবন্দরে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের (সিআইআইডি) অভিযানে ৯৭ লাখ ১৩ হাজার ১০০ টাকার চোরাই পণ্য জব্দ করা হয়েছে। ৩১ আগস্ট ও ১ সেপ্টেম্বর পরিচালিত এসব অভিযানে সিগারেট, মোবাইল ফোন, এলসিডি ও স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

দেশের দুটি প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৃথক অভিযান পরিচালনা করে প্রায় এক কোটি টাকার চোরাই ও শুল্ক ফাঁকি দেওয়া পণ্য জব্দ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরে (সিআইআইডি)। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর অধীন এই সংস্থার অভিযানে জব্দ করা পণ্যের মোট আনুমানিক বাজারমূল্য ৯৭ লাখ ১৩ হাজার ১০০ টাকা। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ঢাকা এবং শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, চট্টগ্রামে এই সফল অভিযানগুলো পরিচালিত হয়।
কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের (সিআইআইডি) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই ধারাবাহিক অভিযানগুলো পরিচালিত হয়েছিল ৩১ আগস্ট এবং ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের মধ্যে। দেশের আকাশপথ ব্যবহার করে অবৈধভাবে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানির চেষ্টা প্রতিহত করতে এই বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।
অভিযানে জব্দকৃত পণ্যের মধ্যে রয়েছে বিপুল পরিমাণ বিদেশি সিগারেট, স্মার্টফোন, মোবাইল এলসিডি, মোবাইল মাদারবোর্ড ও ডিসপ্লে, বিদেশি মদ, বিভিন্ন ধরনের ওষুধ এবং স্বর্ণালংকার। চোরাচালান চক্রের সদস্যরা ভিন্ন ভিন্ন চালানের মাধ্যমে এসব নিষিদ্ধ ও শুল্কযোগ্য পণ্য দেশের ভেতরে নিয়ে আসার চেষ্টা করছিল বলে জানা গেছে।
অভিযানের সুনির্দিষ্ট বিবরণ অনুযায়ী, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিভিন্ন যাত্রীর কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ পণ্য আটক করা হয়। এর মধ্যে মো. মনসুর আলম নামক যাত্রীর কাছ থেকে ২৩১ কার্টন বিদেশি সিগারেট জব্দ করা হয়। এছাড়া মোহাম্মদ নওয়াজ শরীফ নামের আরেক যাত্রীর কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ২৫০ কার্টন সিগারেট।
অন্যদিকে, টিপু আল ইমরান নামক যাত্রীর কাছ থেকে ৩৬ পিস স্মার্টফোন জব্দ করা হয়। এই বিমানবন্দর থেকেই আরও উদ্ধার করা হয় ৫৫০ পিস মোবাইল এলসিডি এবং ৯৫০ পিস মোবাইল মাদারবোর্ড ও ডিসপ্লে। পাশাপাশি, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি পরিত্যক্ত ব্যাগ তল্লাশি করে ৩ লিটার বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়।
অপর এক অভিযানে মো. আল আমিন নামের এক যাত্রীর কাছ থেকে ১৮ লিটার বিদেশি মদ জব্দ করা হয়। বিমানবন্দরগুলোতে কাস্টমস কর্মকর্তাদের কড়া নজরদারির কারণে এসব অবৈধ চালানের সঙ্গে জড়িতরা পার পেয়ে যেতে পারেনি। চোরাচালান প্রতিরোধে সিআইআইডি ও অন্যান্য সংস্থার যৌথ তৎপরতা এই অভিযানে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
ঢাকার পাশাপাশি চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও সফল অভিযান চালিয়েছে কাস্টমস গোয়েন্দারা। এই বিমানবন্দরটিতে যাত্রীর কাছ থেকে ১০০ গ্রাম ওজনের স্বর্ণালংকার জব্দ করা হয়। সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইন্স, থাই এয়ারওয়েজ এবং গালফ এয়ারসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থার ফ্লাইটে আসা যাত্রীদের লাগেজ ও দেহ তল্লাশি করে এসব অবৈধ পণ্য উদ্ধার করা হয়।








