ঢাকা-কুমিল্লা কর্ড লাইন রেলপথ বাস্তবায়নের উদ্যোগ
ঢাকা, কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম রুটে ভ্রমণ সময় কমাতে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ঢাকা-কুমিল্লা কর্ড লাইন রেলপথ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক ও ইউরোপীয় ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক এতে আগ্রহ দেখিয়েছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ২:১৬· ১ মিনিট পড়া

বাংলাদেশ রেলওয়ে ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ঢাকা-কুমিল্লা কর্ড লাইন রেলপথ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঢাকা, কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম অঞ্চলকে যুক্ত করতে যাওয়া এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মধ্যে এই বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্প চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
এই নতুন কর্ড লাইন রেলপথটি প্রায় ৯০ কিলোমিটার দীর্ঘ হবে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বিদ্যমান রেলপথের দূরত্ব কমবে অন্তত ৮০ কিলোমিটার। বর্তমানে বিদ্যমান রেলপথের দূরত্ব প্রায় ৩২০ কিলোমিটার, আর সড়কপথে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের দূরত্ব প্রায় ২৫০ কিলোমিটার। নতুন এই রুট চালু হলে যাতায়াতে দূরত্ব উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে।
নতুন এই রেলপথ চালু হলে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে ট্রেনে পৌঁছাতে সময় লাগবে মাত্র তিন থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টা। যেখানে বর্তমানে আন্তঃনগর ট্রেনে সময় লাগে প্রায় পাঁচ থেকে সাড়ে ছয় ঘণ্টা এবং লোককাল ও মেইল ট্রেনে সময় গড়ায় প্রায় নয় ঘণ্টা পর্যন্ত। এছাড়া পণ্যবাহী ট্রেনে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় পৌঁছাতে বর্তমানে সময় লাগে প্রায় ১২ থেকে ১৫ ঘণ্টা, যা নতুন রেলপথ চালু হলে কমে আসবে পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টায়।
বর্তমানে দেশের পণ্য পরিবহনের মাত্র ২ থেকে ৩ শতাংশ রেলপথে হয়। তবে নতুন কর্ড লাইন চালু হলে এই হার ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত উন্নীত করা সম্ভব হবে। উল্লেখ্য, গত দুই দশকে ট্রেনের গড় গতি ৬৬ কিলোমিটার থেকে কমে ৫৭ কিলোমিটারে নেমে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে গতি বাড়ানোর বিষয়টিও বেশ গুরুত্ব পাচ্ছে।
প্রকল্পটির বর্তমান অগ্রগতি সম্পর্কে বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রকৌশলী আল ফাত্তাহ মো. মাসউদুর রহমান জানিয়েছেন, ঢাকা-কুমিল্লা কর্ড লাইনের ফিজিবিলিটি স্টাডি শেষ হয়েছে এবং এখন ডিজাইনিংয়ের কাজ চলছে। প্রথমে তারা জমি অধিগ্রহণ বা ল্যান্ড রিকুইজিশন করবেন এবং তারপরে মূল কনস্ট্রাকশনে যাবেন। এর জন্য আলাদা ডিপিপিও তৈরি করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রকল্পের অর্থায়ন প্রসঙ্গে প্রকৌশলী আল ফাত্তাহ মো. মাসউদুর রহমান জানান, বিষয়টি এখনও নিশ্চিত নয়। তবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও ইউরোপীয় ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (ইআইবি) এই প্রকল্পে আগ্রহ দেখাচ্ছে। এ নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা এখনও শুরু হয়নি। এর বাইরে ২৬০টি ব্রডগেজ ক্যারেজ, ৩০টি লোকোমোটিভ, ২০০টি মিটারগেজ ক্যারেজ, চারটি হুইল লেদ এবং চারটি রিলিফ ট্রেন সংগ্রহের সম্ভাব্যতা যাচাইাধীন রয়েছে।
ঢাকা পোস্ট সূত্রে প্রাপ্ত এই প্রকল্পে মো. আফজাল হোসেন, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং শেখ রবিউল আলমসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের তথ্য ও কার্যক্রমের প্রেক্ষাপট রয়েছে। সার্বিকভাবে এই কর্ড লাইন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামের যোগাযোগব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।








