ঠাকুরগাঁওয়ে অর্ধকোটি টাকার ন্যায়কুঞ্জ নিয়ে অজ্ঞতা ও অব্যবস্থাপনা
ঠাকুরগাঁও জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে প্রায় অর্ধকোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত 'ন্যায়কুঞ্জ' বিশ্রামাগার সম্পর্কে জানেন না বেশিরভাগ বিচারপ্রার্থী। প্রচার ও দৃশ্যমান সাইনবোর্ডের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত পড়ে থাকায় এই বিশ্রামাগারে জমেছে ধুলোবালি।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

১৯ আগস্ট ২০২৬ তারিখে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ঠাকুরগাঁও জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে বিচারপ্রার্থীদের কষ্টের কথা বিবেচনা করে ২০২৩ সালে একটি আধুনিক বিশ্রামাগার নির্মাণ করা হয়েছিল। প্রায় অর্ধকোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই বিশ্রামাগারটির নাম দেওয়া হয় 'ন্যায়কুঞ্জ'। দূরদূরান্ত থেকে আসা বিচারপ্রার্থীরা যাতে আদালতে এসে স্বাচ্ছন্দ্যে সময় কাটাতে পারেন, সেজন্যই মূলত এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
নির্মাণাধীন এই বিশ্রামাগারটিতে প্রায় ৪০ জনের একযোগে বসার সুব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্য রয়েছে আলাদা ওয়াশরুম বা শৌচাগার। বিচারপ্রার্থীদের তৃষ্ণা মেটাতে বিশুদ্ধ পানির সুব্যবস্থা এবং নাস্তা বা চায়ের জন্য একটি ছোট টি-স্টলও রাখা হয়েছে এই অবকাঠামোটির ভেতরে। অথচ এত সব সুযোগ-সুবিধা থাকা সত্ত্বেও সাধারণ মানুষ এর সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
সরেজমिन পরিদর্শনে দেখা যায়, পর্যাপ্ত প্রচার এবং দৃশ্যমান কোনো সাইনবোর্ড না থাকায় বিচারপ্রার্থীরা এই বিশ্রামাগারের অস্তিত্ব সম্পর্কে অন্ধকারে রয়েছেন। আদালত ভবনের পেছনে কিছুটা আড়ালে অবস্থিত হওয়ায় অনেকেই সহজে এর অবস্থান খুঁজে পান না। ফলে নিয়মিত ব্যবহার না হওয়ায় ভেতরের মূল্যবান আসবাবপত্র ও বিভিন্ন স্থানে এরই মধ্যে ধুলো জমে গেছে।
এ বিষয়ে কথা হয় আদালতে আসা বিচারপ্রার্থী আসমা বেগমের সঙ্গে। তিনি জানান, তিনি আদালতে এসে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেছেন। কিন্তু বিচারপ্রার্থীদের জন্য 'ন্যায়কুঞ্জ' নামে যে একটি বিশ্রামাগার রয়েছে, সে বিষয়ে তিনি কিছুই জানতেন না। একই ধরনের অনুযোগ করেন আরেক বিচারপ্রার্থী বাবুল বনিকও। তিনি বলেন, আদালতে এসে কোথায় বসবেন, তা নিয়ে অনেক সময় তাঁদের নানা সমস্যায় পড়তে হয়। ন্যায়কুঞ্জের বিষয়ে আগে জানা থাকলে তিনি সেখানে গিয়ে বসতে পারতেন।
দূরদূরান্ত থেকে আসা ইয়াকুব আলী নামের আরেক বিচারপ্রার্থী জানান, দূর থেকে আদালতে এসে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। বিশ্রামাগারটি কোথায় এবং কীভাবে ব্যবহার করা যায়, সে বিষয়ে যদি স্পষ্টভাবে জানানো হতো, তবে সাধারণ বিচারপ্রার্থীরা বিশেষভাবে উপকৃত হতেন। সঠিক প্রচারের অভাবেই মূলত এই জনহিতকর উদ্যোগটি সাধারণ মানুষের কোনো উপকারে আসছে না।
এসব বিষয়ে ঢাকা পোস্টের কাছে নিজের মতামত তুলে ধরেন মো. মজনু মিয়া। তিনি জানান, ন্যায়কুঞ্জটি আদালত ভবনের কিছুটা ভেতরে ও আড়ালে অবস্থিত হওয়ায় অনেক বিচারপ্রার্থী সহজে এর অবস্থান বুঝতে পারেন না। তবে তিনি আশ্বস্ত করে জানান যে, বিচারপ্রার্থীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে আদালতের প্রধান ফটকের প্রবেশপথে তথ্যসেবা কেন্দ্রে বসার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে, এই ন্যায়কুঞ্জটি যাতে বিচারপ্রার্থীরা নিয়মিত ও স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যবহার করতে পারেন, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা খুব শীঘ্রই গ্রহণ করা হবে।








