জয়পুরের সিনজারা উৎসবে ১৮ লাখ মানুষের রেকর্ড উপস্থিতি
ভারতের রাজস্থানের জয়পুরে মোতি ডুংরি গণেশ মন্দিরে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী সিনজারা উৎসব। এই উৎসবে প্রায় ১৮ লাখ ভক্ত ও দর্শনার্থী অংশ নেন এবং মাত্র তিন ঘণ্টার মধ্যে সাড়ে তিন হাজার কেজি মেহেদি বিতরণ করা হয়।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

ভারতের রাজস্থানের জয়পুরে অবস্থিত ঐতিহাসিক মোতি ডুংরি গণেশ মন্দিরে সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ অত্যন্ত উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে সিনজারা উৎসব উদযাপিত হয়েছে। রাজস্থান তথা ভারতের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক এই কেন্দ্রটিতে এই বছর উৎসবকে কেন্দ্র করে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। উৎসবের প্রধান আকর্ষণ ছিল ভক্তদের মধ্যে বিশেষ প্রসাদ হিসেবে মেহেদি বিতরণ, যা অনুষ্ঠানটিকে আরও বর্ণিল করে তোলে।
এবারের সিনজারা উৎসবে রেকর্ড সংখ্যক মানুষের সমাগম ঘটেছিল। মন্দির প্রাঙ্গণ ও এর আশপাশের এলাকায় প্রায় ১৮ লাখ ভক্ত ও দর্শনার্থী ভিড় করেছিলেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা লাখো মানুষের এই উপস্থিতিতে মোতি ডুংরি গণেশ মন্দির চত্বর জনসমুদ্রে পরিণত হয়। উৎসবের ঐতিহ্য ও ধর্মীয় গুরুত্বের কারণে প্রতি বছরের মতো এবারও ভক্তদের মাঝে এই বিপুল উৎসাহ লক্ষ্য করা গেছে।
উৎসবের মূল আকর্ষণ ছিল নারীদের জন্য মেহেদি বিতরণের বিশেষ আয়োজন। এই উপলক্ষে রাজস্থানের বিখ্যাত সোজাত শহর থেকে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কেজি বা সাড়ে তিন টন খাঁটি মেহেদি সংগ্রহ করে মোতি ডুংরি গণেশ মন্দিরে আনা হয়েছিল। সোজাতের মেহেদির দেশজুড়ে বিশেষ খ্যাতি রয়েছে, আর সেই মেহেদি পেতে মন্দিরে দীর্ঘ লাইন ধরেছিলেন ভক্তরা।
উৎসবের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক ছিল এই বিপুল পরিমাণ মেহেদি বিতরণের গতি। মন্দির কর্তৃপক্ষের সুব্যবস্থাপনা এবং ভক্তদের চরম উল্লাসের মধ্যে মাত্র তিন ঘণ্টার মধ্যেই সমস্ত মেহেদি বিতরণ শেষ হয়ে যায়। এত বিশাল পরিমাণ মেহেদি এত অল্প সময়ে শেষ হয়ে যাওয়া এই উৎসবের ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
মোতি ডুংরি গণেশ মন্দিরে অনুষ্ঠিত এই সিনজারা উৎসবের মাধ্যমে রাজস্থানের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি আরও একবার বিশ্ববাসীর সামনে জোরালোভাবে ফুটে উঠেছে। সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর এই আয়োজনে ১৮ লাখ মানুষের উপস্থিতি এবং রেকর্ড সময়ে সাড়ে তিন হাজার কেজি মেহেদি বিতরণ উৎসবটিকে এক ঐতিহাসিক রূপ দিয়েছে। কঠোর শৃঙ্খলা ও ভক্তদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে অত্যন্ত সফলভাবে এই বরেণ্য উৎসবের সমাপ্তি ঘটে।








