জ্বালানি সংকট ও লংমার্চ নিয়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা
বাংলাদেশে জ্বালানি সংকট ও লংমার্চের মতো কর্মসূচি নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের বক্তব্য সামনে এসেছে। দেশের ৬০ ভাগের বেশি জ্বালানি আমদানিনির্ভর হওয়ায় এ বিষয়ে নানা আলোচনা চলছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আবদু সালাম এবং বিএনপির নেতাসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা এ বিষয়ে মন্তব্য করেছেন।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

২০২৬ সালের ৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট, লংমার্চ এবং সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নানা আলোচনা ও বক্তব্য সামনে এসেছে। দেশের বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও পক্ষ নানা কর্মসূচি ও প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছে। বিশেষ করে দেশের মোট জ্বালানির ৬০ ভাগের বেশি অংশ আমদানিনির্ভর হওয়ায় এ খাতের সংকট ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে জনমনে ও রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা ধরনের আলোচনা চলছে।
সাম্প্রতিক এই প্রেক্ষাপটে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চ কর্মসূচি পালন করেছে। জ্বালানি ও বিভিন্ন দাবিদাওয়াকে কেন্দ্র করে আয়وبিত এই লংমার্চ ও রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানা মূল্যায়ন ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। দেশের সামগ্রিক জ্বালানি নিরাপত্তা ও আমদানিনির্ভরতা কমাতে বাপেক্সসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা নিয়েও রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে নানা মত প্রকাশ করা হচ্ছে।
এদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে আবদু সালাম কামরাঙ্গীরচরে ‘বর্জ্যের বিনিময়ে বাজার’ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন। সেখানে তিনি দেশের বর্তমান জ্বালানি ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন এবং বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করে বলেন যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে আলাদিনের চেরাগ নেই যে ঘষা দিলেই গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি—সব চলে আসবে।
আবদু সালাম তাঁর বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেন যে, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাবিতে লংমার্চ করে কোনো লাভ নেই। তাঁর মতে, এ ধরনের কর্মসূচিতে অংশ নিতে যে পেট্রল বা গ্যাস ব্যবহার করা হচ্ছে, সেটিও এক ধরনের অপচয়। আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থার এই সময়ে সম্পদ অপচয় না করে বাস্তবসম্মত উপায়ে পরিস্থিতি মোকাবিলা করার ওপর তিনি জোর দেন।
অন্যদিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এক আলোচনা সভায় রসাত্মক ও রাজনৈতিক ভঙ্গিতে বিভিন্ন এলাকার গ্যাস সংকটের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আমরা যারা রাজনীতি করি, আমাদের সবার শ্বশুরবাড়ি আছে। সিলেটে গেলে আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে বলে সিলেটের দামান, আর নাটোরে গেলে আমাকে বলে নাটোরের জামাই। নাটোর বাংলা ভাষার গালির জায়গা, আমার শ্বশুরবাড়ি। এখানে তো গ্যাস দিতেই হবে। তাঁর এই মন্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ কৌতূহল ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
অনুষ্ঠানে ও বিভিন্ন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে আমীন আল রশীদ, রুহুল কুদ্দুস তালুকদারসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং রাজনৈতিক নেতারা দেশের চলমান জ্বালানি সংকট, জনদুর্ভোগ ও এর সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে তাদের নিজ নিজ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। সামগ্রिक এই পরিস্থিতি এবং লংমার্চের মতো রাজনৈতিক কর্মসূচিগুলো দেশের অর্থনীতি ও জনজীবনের ওপর কী প্রভাব ফেলছে, তা নিয়ে এখন নানা বিশ্লেষণ চলছে।








