জার্মান নিয়ন্ত্রক সংস্থার অভিযোগে অ্যাপলের ডিজাইন বদলের নির্দেশ
জার্মানির ফেডারেল কার্টেল অফিস অ্যাপলের ডেটা কনসেন্ট পপ-আপের ডিজাইন নিয়ে আপত্তিকর পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এনেছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার এই আদেশের ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রায় সব দেশেই ডিজাইন ও ভাষা পরিবর্তন করতে চার মাস সময় পাচ্ছে অ্যাপেল।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

জার্মানির শীর্ষস্থানীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফেডারেল কার্টেল অফিস বা Bundeskartellamt সম্প্রতি প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপলের বিরুদ্ধে একটি বড় অভিযোগ তুলেছে। সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, অ্যাপল তাদের ডেটা কনসেন্ট বা ডেটা সম্মতির পপ-আপ ডিজাইন এমনভাবে তৈরি করেছে যা তৃতীয় পক্ষের অ্যাপগুলোর তুলনায় তাদের নিজস্ব অ্যাপগুলোকে বিশেষ সুবিধা বা প্রাধান্য দেয়। এই ধরনের চর্চা প্রতিযোগিতাবিরোধী এবং বাজার নিয়ন্ত্রণের নীতিমালার পরিপন্থী বলে মনে করছে জার্মান কর্তৃপক্ষ।
ঘটনার প্রেক্ষাপটে জানা যায় যে, অ্যাপলের এই বিতর্কিত ডেটা কনসেন্ট পপ-আপের ডিজাইন এবং ব্যবহৃত ভাষা আপডেট করার জন্য তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই নির্দেশ বাস্তবায়নের জন্য অ্যাপলকে চার মাসের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত এই চার মাসের মধ্যে অ্যাপলকে তাদের পপ-আপগুলোর ডিজাইন এবং ভাষা প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করতে হবে যাতে আর কোনো পক্ষপাতিত্বের সুযোগ না থাকে।
জার্মান নিয়ন্ত্রক সংস্থার এই নির্দেশ বা সিদ্ধান্ত কেবল জার্মানির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ফেডারেল কার্টেল অফিসের আদেশটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রায় সব দেশেই কার্যকর হবে। ফলে ইউরোপীয় অঞ্চলের বাজারগুলোতে অ্যাপলকে তাদের সফটওয়্যার ও পপ-আপ ইন্টারফেসে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে বাধ্য হতে হচ্ছে।
উল্লেখ্য যে, অ্যাপলের ডেটা ট্র্যাকিং সংক্রান্ত নীতি ও পরিবর্তন নিয়ে অতীতেও নানা আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে ২০২১ সালের এপ্রিল মাসে আইওএস ১৪.৫ সংস্করণের মাধ্যমে অ্যাপল তাদের অ্যাপ ট্র্যাকিং ট্রান্সপারেন্সি বা এটিটি প্রম্পটগুলো চালু করেছিল। সে সময় এই প্রম্পটগুলোর কারণে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামসহ বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপের প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি খরচ বা ক্ষতির মুখে পড়ার মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল।
বর্তমান এই পদক্ষেপে ফেডারেল কার্টেল অফিসের পক্ষ থেকে আরও কিছু দীর্ঘমেয়াদি বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, এই নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্ধারিত প্রতিশ্রুতিগুলো আগামী সাত বছর পর্যন্ত বলবৎ এবং প্রযোজ্য থাকবে। এর ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে অ্যাপলের ডেটা সংগ্রহ ও সম্মতির প্রক্রিয়া আরও কঠোরভাবে নজরদারির মধ্যে থাকবে।
জার্মান নিয়ন্ত্রক সংস্থার এই পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রযুক্তি বাজারে বড় বড় কোম্পানিগুলোর একচেটিয়া প্রভাব এবং প্রতিযোগিতাবিরোধী কৌশল রোধে আরও একটি জোরালো পদক্ষেপ নেওয়া হলো। এখন দেখার বিষয়, নির্ধারিত চার মাসের মধ্যে অ্যাপল তাদের ডিজাইন ও ভাষায় কী ধরনের পরিবর্তন আনে এবং ইউরোপীয় বাজারে এর কী প্রভাব পড়ে।








