চ্যাটজিপিটির বিদ্যুৎ ও পানির ব্যবহার প্রকাশ করলেন স্যাম অল্টম্যান
চ্যাটজিপিটির প্রতিটি প্রশ্নে কী পরিমাণ বিদ্যুৎ ও পানি খরচ হয়, তা এক ব্লগ পোস্টে প্রকাশ করেছেন ওপেনএআইর প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান। ডেটা সেন্টার ও এআই অবকাঠামোবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ডেটা সেন্টার ডায়নামিকসের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি জায়ান্ট ওপেনএআইর প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান সম্প্রতি চ্যাটজিপিটি পরিচালনার ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ এবং পানির সুনির্দিষ্ট ব্যবহারের হার প্রকাশ করেছেন। ডেটা সেন্টার ও এআই অবকাঠামোবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ডেটা সেন্টার ডায়নামিকস (ডিসিডি) এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এই প্রতিবেদন এবং স্যাম অল্টম্যানের ব্লগ পোস্টের তথ্যানুযায়ী, আধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেলগুলোর পেছনে কী পরিমাণ প্রাকৃতিক সম্পদ খরচ হচ্ছে, তা স্পষ্ট হয়েছে।
স্যাম অল্টম্যান তার প্রকাশিত ব্লগ পোস্টে সুনির্দিষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, চ্যাটজিপিটির গড় একটি প্রশ্নে প্রায় ০.৩৪ ওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ এবং প্রায় ০.০০০০৮৫ গ্যালন পানি ব্যবহার হয়। এই পরিসংখ্যানটি প্রকাশ করার মধ্য দিয়ে এআই ব্যবহারের পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে চলমান আলোচনার একটি প্রাতিষ্ঠানিক চিত্র সামনে এসেছে। বিশেষ করে বড় ভাষার মডেলগুলো পরিচালনার ক্ষেত্রে যে বিশাল পরিমাণ শক্তির প্রয়োজন হয়, তার একটি পরিমাপ পাওয়া গেছে এই তথ্যের মাধ্যমে।
প্রকাশিত এই পরিসংখ্যানের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে স্যাম অল্টম্যান একটি তুলনা তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, গড় একটি প্রশ্নে প্রায় ০.৩৪ ওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ খরচ হয়। এটি একটি ওভেন এক সেকেন্ডের একটু বেশি সময় চালালে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহার করে, তার কাছাকাছি। অথবা উচ্চ দক্ষতার একটি লাইটবাল্ব কয়েক মিনিট জ্বালিয়ে রাখার সমান। এই তুলনার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের বোধগম্য করে তোলা হয়েছে যে একটি মাত্র প্রশ্নের পেছনে ঠিক কতটুকু শক্তি ব্যয় হয়।
বর্তমান সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সেবার পরিধি যেভাবে বাড়ছে, তাতে এই শক্তির জোগান দেওয়া অত্যন্ত জটিল একটি প্রক্রিয়া। বিশ্বজুড়ে এই ধরনের প্রযুক্তির জন্য বিশাল অবকাঠামো এবং ডেটা সেন্টার প্রয়োজন হয়। এআই প্রযুক্তির এই ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে এবং সার্বিক কার্যক্রম সচল রাখতে বড় অংকের প্রাকৃতিক সম্পদ ও শক্তি খরচ হয়ে থাকে, যা প্রযুক্তি খাতের একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ওপেনএআই তাদের এই বিশাল কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য নিজস্ব অবকাঠামোর পাশাপাশি বাহ্যিক সহযোগিতার ওপর নির্ভর করছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ওপেনএআই বর্তমানে চ্যাটজিপিটি পরিচালনায় মাইক্রোসফট অ্যাজুরের বিভিন্ন ডেটা সেন্টার ব্যবহার করছে। মাইক্রোসফটের এই ক্লাউড ও ডেটা সেন্টার নেটওয়ার্কের মাধ্যমেই মূলত বিশ্বজুড়ে ব্যবহারকারীদের কাছে চ্যাটজিপিটির সেবা নিরবচ্ছিন্নভাবে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, এআই অবকাঠামো ও প্রযুক্তি খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান যেমন ওপেনএআই, মাইক্রোসফট অ্যাজুর, ওরাকল এবং গুগল প্রতিনিয়ত তাদের কার্যক্রম সম্প্রসারণ করছে। এর পাশাপাশি ডেটা সেন্টার ডায়নামিকস (ডিসিডি)-এর মতো সংবাদমাধ্যমগুলো এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মকাণ্ড, বিদ্যুৎ ব্যবহার এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও প্রকাশ করে আসছে। স্যাম অল্টম্যানের এই নতুন তথ্য প্রকাশের ফলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পরিবেশগত প্রভাব এবং সম্পদ ব্যবহারের বিষয়টি আবারও জোরালোভাবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে।








