চুয়াডাঙ্গায় মেছো বিড়াল রক্ষায় কাজ করছে পানকৌড়ি
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় মেছো বিড়াল রক্ষায় সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালাচ্ছে 'পানকৌড়ি' সংগঠন। গত এক দশকে ৪০টির বেশি মেছো বিড়াল উদ্ধার করে অবমুক্ত করেছে তারা।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া
চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলার জামজামি ইউনিয়নের বেলগাছি গ্রাম ও তার আশপাশের এলাকায় মেছো বিড়াল সংরক্ষণে বিশেষ কার্যক্রম পরিচালনা করছে স্থানীয় প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণী নিয়ে কাজ করা সংগঠন 'পানকৌড়ি'। গ্রামবাংলার এই বন্যপ্রাণীটি রক্ষায় এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে সংগঠনটি নিয়মিতভাবে বিভিন্ন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের এই মহতী উদ্যোগে পানকৌড়ি একা কাজ করছে না। তাদের এই কার্যক্রমে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগ এবং আরণ্যক ফাউন্ডেশন। এছাড়া বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ, খুলনাও এই প্রচেষ্টার সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের যৌথ প্রয়াসে স্থানীয় পর্যায়ে মেছো বিড়াল সুরক্ষার কাজ এগিয়ে চলছে।
সংগঠনটির দীর্ঘমে这段 সময়ের কার্যক্রমে বড় ধরনের সফলতা এসেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত এক দশকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ৪০টির বেশি মেছো বিড়াল উদ্ধার করেছে পানকৌড়ি। পরবর্তীতে এই মেছো বিড়ালগুলোকে নিরাপদে তাদের প্রাকৃতিক আবাসে অবমুক্ত করা হয়েছে।
মেছো বিড়ালের জীবনযাত্রা এবং তাদের আবাসস্থল সংকটের কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের গবেষক মুনতাসীর আকাশ। তিনি বলেন, আগে গ্রামীণ ঝোপঝাড় ও জলাভূমির পরিমাণ বেশি ছিল। মেছো বিড়াল সেখানে নিজেদের লুকিয়ে রাখার সুযোগ পেত।
আবাসস্থল হ্রাসের বিষয়টি ব্যাখ্যা করে মুনতাসীর আকাশ আরও বলেন, এখন এসব জায়গা কমে যাওয়ায় তাদের আবাস ও আশ্রয়স্থল সংকুচিত হচ্ছে। একই সঙ্গে খাদ্যসংকটও তৈরি হচ্ছে। এ কারণে খাদ্যের সন্ধানে মেছো বিড়াল ফিশ ফার্ম, পোলট্রি ফার্ম ও লোকালয়ের আশপাশে চলে আসছে। ফলে মানুষের সঙ্গে তাদের দেখা হওয়ার ঘটনাও বাড়ছে।
বখতিয়ার হামিদের মতো স্থানীয় উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি এবং সংশ্লিষ্ট সংগঠনের প্রচেষ্টায় চুয়াডাঙ্গার বেলগাছি গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় মেছো বিড়াল সুরক্ষার বিষয়টি এখন স্থানীয় পর্যায়ে গুরুত্ব পাচ্ছে। বন্যপ্রাণী ও মানুষের সহাবস্থান নিশ্চিত করতে এবং মেছো বিড়াল রক্ষায় এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
তথ্যসূত্র: প্রথম আলো
আপনার প্রতিক্রিয়া