চুয়াডাঙ্গায় আর্সেনিকে মৃত্যু ও আক্রান্তের ঘটনা এবং ভুয়া প্রতিবেদন
চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন গ্রামে আর্সেনিক ও অনিরাপদ পানি পানে প্রায় এক হাজার মানুষের প্রাণ গেছে। অথচ জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা শূন্য দেখিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে ভুয়া প্রতিবেদন পাঠিয়েছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন গ্রামে আর্সেনিক ও অনিরাপদ পানি পানে মানুষ আক্রান্ত ও মৃত্যুর মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে চলেছে। এই বিষাক্ত পানি পানের ফলে চুয়াডাঙ্গা জেলায় আর্সেনিকে আক্রান্ত হয়ে প্রায় এক হাজার মানুষের প্রাণ গেছে। দীর্ঘদিন ধরে নিরাপদ পানির অভাবে জেলার সাধারণ মানুষ চরম স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে জীবনযাপন করছেন।
প্রভাবিত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে দামুড়হুদা উপজেলার গোপিনাথপুর ও বড় দুধপাতিলা গ্রাম। এছাড়া সদর উপজেলার ডিহি, কৃষ্ণপুর এবং বেগমপুর গ্রামের মানুষও আর্সেনিক ও অনিরাপদ পানি পানের কারণে গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছেন। এসব এলাকার নলকূপের পানিতে মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিক পাওয়া গেলেও স্থানীয়রা বাধ্য হয়ে সেই পানি পান করছেন।
কিন্তু মাঠপর্যায়ের এই ভয়াবহ চিত্র সম্পূর্ণ গোপন করা হয়েছে। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ চুয়াডাঙ্গা জেলায় আর্সেনিকে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা শূন্য দেখিয়ে একটি ভুয়া প্রতিবেদন তৈরি করে। এই কাল্পনিক ও ত্রুটিপূর্ণ প্রতিবেদনটি তারা পরবর্তীতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পাঠিয়েছে, যা বাস্তবতার সম্পূর্ণ বিপরীত।
স্বাস্থ্য বিভাগের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন ও বিভ্রান্তিকর প্রতিবেদনের কারণে প্রকৃত চিত্র আড়ালে চলে গেছে। যেখানে বাস্তবে প্রায় এক হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং অসংখ্য মানুষ এখনও অসুস্থ, সেখানে শূন্য আক্রান্ত দেখানোর বিষয়টি নিয়ে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ভুয়া এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে প্রকৃত সংকটকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে অবশেষে নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। এরই ধারাবাহিকতায়, গত বুধবার সকালে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার গোপিনাথপুর গ্রাম পরিদর্শনে আসে জেলার স্বাস্থ্য বিভাগের একটি তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল।
গোপিনাথপুর গ্রামে পৌঁছে ওই প্রতিনিধি দল স্থানীয় পরিস্থিতি সরেজমিন খতিয়ে দেখে। ভুয়া প্রতিবেদনের অভিযোগ ওঠার পর স্বাস্থ্য বিভাগের এই দলটি গ্রাম পরিদর্শনে গিয়ে প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা নেওয়ার চেষ্টা করে। তবে স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ ও ভুক্তভোগীদের মধ্যে ক্ষোভ এখনও বিরাজ করছে।








