চিনির দাম বৃদ্ধি ডায়াবেটিসের জন্য ভালো: বিহারের মন্ত্রীর বিতর্কিত মন্তব্য
বিহারের মন্ত্রী শ্রাবণ কুমার চিনির মূল্যবৃদ্ধিকে ডায়াবেটিস ও কম চিনি খাওয়ার সঙ্গে তুলনা করে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। তাঁর এই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে স্বাধীন সংসদ সদস্য পাপপ্পু যাদব বর্তমান সরকারকে সবচেয়ে বড় ডায়াবেটিস বলে আখ্যায়িত করেছেন।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

ভারতের বিহার রাজ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। রাজ্যে বর্তমানে প্রতি কেজি চিনির দাম বেড়ে ৬৫ রুপিতে পৌঁছেছে। অথচ এর পূর্বে চিনির দাম ছিল প্রায় ৪৮ থেকে ৫০ রুপি। এই উল্লেখযোগ্য মূল্যবৃদ্ধির পর সাধারণ মানুষের যখন নাভিশ্বাস ওঠার উপক্রম, ঠিক তখনই এক অদ্ভুত যুক্তি দিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছেন বিহারের এক মন্ত্রী।
বিহারের মন্ত্রী শ্রাবণ কুমার চিনির মূল্যবৃদ্ধির এই পরিস্থিতিকে ডায়াবেটিসের প্রকোপ এবং মানুষের কম চিনি খাওয়ার সঙ্গে তুলনা করেছেন। চিনির দাম বৃদ্ধির ফলে জনসাধারণের ওপর যে আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে, সেটিকে তিনি এক প্রকার ইতিবাচক হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করেছেন। তাঁর এই মন্তব্য নিয়ে রাজ্যজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
নিজের এই অদ্ভুত যুক্তি তুলে ধরে মন্ত্রী শ্রাবণ কুমার গণমাধ্যমের সামনে বলেন, মানুষ এমনিতেও কম চিনি খাচ্ছে। সবাই ডায়াবেটিসে ভুগছে। আজকাল মিষ্টি খায় কে? আমার মনে হয়, চিনির মূল্যবৃদ্ধিতে এমনিতেও কোনো পার্থক্য হবে না। চিন্তার কোনো কারণ নেই। মন্ত্রীর এমন বক্তব্যের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্নের জন্ম হয়েছে।
মন্ত্রীদের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়ায় সরব হয়েছেন বিরোধী ও স্বাধীন রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ। স্বাধীন সংসদ সদস্য পাপ্পু যাদব বিহারের মন্ত্রীর এই মন্তব্যের অত্যন্ত তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি মন্ত্রীর বক্তব্যকে ব্যঙ্গ করে বলেন, গোবরের উপর যতই ঘি ঢালা হোক না কেন, এর স্বাদ গোবরের মতোই থাকবে। এমন একজন মন্ত্রীর কাছ থেকে আর কী আশা করা যায়?
পাপ্পু যাদব অতীতে জিনিসপত্রের দাম বাড়ার সময়কার রাজনৈতিক পরিস্থিতি টেনে এনে বর্তমান সরকারের দ্বিমুখী নীতির তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, যখন গ্যাস ও টমেটোর দাম বেড়েছিল, স্মৃতি ইরানিসহ অনেক বিশিষ্ট নেতা প্রশ্ন তুলছিলেন, কিন্তু আজ চিনির দাম বাড়লে তারা ডায়াবেটিসের কথা বলছেন। বর্তমান সরকারের কড়া সমালোচনা করে তিনি আরও যোগ করেন যে, সবচেয়ে বড় ডায়াবেটিস হলো সরকার।
মূল্যবৃদ্ধির মতো একটি গুরুতর জনসমস্যাকে এড়িয়ে গিয়ে ডায়াবেটিস ও মিষ্টি খাওয়ার মতো বিষয়কে সামনে আনার ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে চিনির দাম ৪৮-৫০ রুপি থেকে বেড়ে সোজা ৬৫ রুপিতে পৌঁছানো এবং অন্যদিকে মন্ত্রীর এমন বিতর্কিত যুক্তি—সবমিলিয়ে বিহারের রাজনৈতিক অঙ্গন বর্তমানে বেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এনডিটিভি অনলাইন, রাইজিংবিডি এবং নোবিপ্রবি সূত্রে এই তথ্যগুলো নিশ্চিত করা হয়েছে। শুক্রবার প্রকাশিত এই ঘটনাটি নিয়ে রাজ্যজুড়ে আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় বইছে।








