চিকিৎসাসেবায় অক্সিজেন প্রাপ্যতা নিয়ে আইইউবির নীতি সংলাপ
বাংলাদেশে চিকিৎসায় অক্সিজেন প্রাপ্তির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সম্প্রতি একটি নীতি সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের (আইইউবি) আয়োজনে এই সংলাপে দেশের স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে আসে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১৩· ১ মিনিট পড়া

বাংলাদেশে চিকিৎসাসেবায় মেডিক্যাল অক্সিজেনের প্রাপ্যতা ও বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সম্প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের (আইইউবি) উদ্যোগে এই নীতি সংলাপের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে দেশের চিকিৎসাসেবায় অক্সিজেনের ব্যবহার, বিভিন্ন স্বাস্থ্যপ্রতিষ্ঠানে অক্সিজেন প্ল্যান্টের বর্তমান অবস্থা এবং রোগীদের সেvapraptির নানা দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে বর্তমানে প্রতিদিন ১১০ থেকে ১২০ টন মেডিক্যাল অক্সিজেনের প্রয়োজন হয়। তবে করোনা মহামারির সময় এই চাহিদার পরিমাণ নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল। সে সময় দেশে দৈনিক সর্বোচ্চ অক্সিজেনের চাহিদা ৪০০ টনে গিয়ে পৌঁছেছিল, যা স্বাস্থ্য খাতের ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছিল।
আইসিডিডিআরবির গবেষকেরা ২০২৫ সালে দেশের ১০১টি অক্সিজেন প্ল্যান্টের পরিস্থিতি মূল্যায়ন করেছেন। সেই মূল্যায়নের ফলাফলে দেখা গেছে যে, দেশে অক্সিজেন উৎপাদনের অবকাঠামো থাকলেও তার বড় একটি অংশই যথাযথভাবে ব্যবহার করা যাচ্ছে না। মূল্যায়িত ১০১টি প্ল্যান্টের মধ্যে মাত্র ৩৪টি বা ৩৩.৭ শতাংশ প্ল্যান্ট বর্তমানে সচল রয়েছে বা কাজ করছে।
এ ছাড়া আরও ১৯৪৭টি প্ল্যান্ট বা ৪৬.৫ শতাংশ প্ল্যান্ট কাজ করলেও মূল্যায়নের সময় সেগুলোকে চালু অবস্থায় দেখা যায়নি। অন্যদিকে, বাকি ২০টি বা ১৯.৮ শতাংশ প্ল্যান্ট সম্পূর্ণভাবে ব্যবহারের অনুপযোগী বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই পরিস্থিতি দেশের চিকিৎসাসেবায় অক্সিজেনের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।
সংলাপে চিকিৎসা গ্রহণের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের নানা ধরনের বাধার চিত্রও তুলে ধরা হয়। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ প্রয়োজনীয় অক্সিজেন পান না। এর পেছনে নানা সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণ রয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, প্রতি ১০০ জনের মধ্যে ৪৬ জন নানা কারণে হাসপাতাল বা ক্লিনিকে যান না।
পাশাপাশি, যারা হাসপাতালে যান তাদের মধ্যেও বিভিন্ন ধরনের সমস্যার মুখে পড়তে হয়। সংলাপে জানানো হয় যে, ৮ শতাংশ মানুষ হাসপাতালে গিয়ে দেখেন সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো সেবা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত নয়। এ ছাড়া আরও ৮ শতাংশ মানুষ হাসপাতালে পৌঁছানোর পরও সেবা নিতে পারেন না এবং ৮ শতাংশের অভিজ্ঞতা হচ্ছে এই যে, তাঁরা মানসম্পন্ন সেবা পান না।
উক্ত নীতি সংলাপ এবং গবেষণার সঙ্গে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান যুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রথম আলো, ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ (আইইউবি), ল্যানসেট, আইসিডিডিআরবি, এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংক, জাতিসংঘ এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ। অনুষ্ঠানে আহমেদ এহসানুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও গবেষকেরা অংশ নেন এবং দেশের স্বাস্থ্য অবকাঠামো বিশেষ করে অক্সিজেন ব্যবস্থার উন্নয়নে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন।








