চলতি অর্থবছরের প্রথম মাসে কমল বিদেশি ঋণ ছাড়
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) ৩০ আগস্ট প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে বিদেশি ঋণ ছাড় কমেছে ১৩ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ। একই সময়ে আগের ঋণের আসল ও সুদ বাবদ পরিশোধ বেড়েছে প্রায় চার শতাংশ।
প্রকাশ: · আপডেট: ৩০ আগস্ট ২০২৬, রাত ৯:১৬· ১ মিনিট পড়া

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) দেশের বৈদেশিক ঋণ ও পরিশোধের পরিস্থিতি নিয়ে একটি নতুন প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ৩০ আগস্ট প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ের বিদেশি ঋণ ছাড় এবং ঋণের অর্থ পরিশোধের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। দেশের সার্বিক অর্থনীতি ও বৈদেশিক মুদ্রার মজুত বা রিজার্ভের প্রেক্ষাপটে এই তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
ইআরডির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে বাংলাদেশ মোট ১৮০ দশমিক ১৮ মিলিয়ন ডলার বৈদেশিক ঋণ ছাড় পেয়েছে। অথচ এর আগের অর্থবছরের একই সময়ে অর্থাৎ জুলাই মাসে বিদেশি ঋণ ছাড়ের পরিমাণ ছিল ২০৮ দশমিক ০৪ মিলিয়ন ডলার। তুলনামূলক বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত বছরের তুলনায় চলতি বছরের জুলাই মাসে বৈদেশিক ঋণ ছাড় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমেছে।
প্রতিবেদনের হিসাব অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই মাসে বিদেশি ঋণ ছাড়ের হার কমে যাওয়ার সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যানও উঠে এসেছে। আগের অর্থবছরের জুলাই মাসের তুলনায় চলতি অর্থবছরের জুলাই মাসে ঋণ ছাড় কমেছে ১৩ দশমিক ৩৯ শতাংশ। অর্থাৎ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে প্রতিশ্রুত ঋণের অর্থ প্রাপ্তি বা ছাড়ের গতি কিছুটা মন্থর হয়েছে।
ঋণ ছাড় হ্রাসের বিপরীতে উল্টো চিত্র দেখা গেছে ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে। চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে বাংলাদেশকে আগের বিভিন্ন ঋণের আসল ও সুদ বাবদ বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ করতে হয়েছে ৪৫৩ দশমিক ২৩ মিলিয়ন ডলার। এর আগে আগের অর্থবছরের জুলাই মাসে বৈদেশিক ঋণের আসল ও সুদ বাবদ পরিশোধের পরিমাণ ছিল ৪৪৭ দশমিক ৬৮ মিলিয়ন ডলার (প্রতিবেদনের টীকা অনুযায়ী কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৪৪৬ দশমিক ৬৮ মিলিয়ন ডলার উল্লেখ রয়েছে)।
পরিসংখ্যান বলছে, চলতি অর্থবছরের জুলাই মাসে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের এই পরিমাণ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) তথ্য অনুযায়ী, আগের অর্থবছরের তুলনায় চলতি অর্থবছরের জুলাই মাসে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের পরিমাণ প্রায় চার শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বৈদেশিক ঋণ ছাড় কমে যাওয়ার পাশাপাশি ঋণ পরিশোধের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ওপর একটি বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে নির্ধারিত সময়ে বৈদেশিক ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধের বাধ্যবাধকতা থাকায় সরকারকে নিয়মিতভাবে এই অর্থ পরিশোধ করতে হচ্ছে। ইআরডির এই হালনাগাদ প্রতিবেদন দেশের বৈদেশিক ঋণ ব্যবস্থাপনার বর্তমান বাস্তবতাই তুলে ধরেছে।








