চবির দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী স্নাতক মিজান মিয়ার স্থায়ী চাকরির আবেদন
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ থেকে পাস করা দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মিজান মিয়া একটি স্থায়ী চাকরির জন্য আবেদন করেছেন। বর্তমানে তিনি পুরোপুরি স্ত্রীর আয়ে চলা সংসারে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে তিনি এই চাকরি প্রত্যাশা করছেন।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সাদেকপুর ইউনিয়নের আদমপুর গ্রামের সন্তান মিজান মিয়া জন্ম থেকেই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। তাঁর বয়স এখন ২৫ বছর। তিনি সাত ভাইবোনের একটি পরিবারে বড় হয়েছেন। নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ থেকে পড়াশোনা সম্পন্ন করেন। ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হয়ে তিনি ২০২৩ সালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন এবং ২০২৫ সালে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। এছাড়া ২০২৩ সালে তিনি হাবিবা বেগমকে বিয়ে করেন।
শিক্ষাজীবন শেষ করার পর থেকেই একটি স্থায়ী কর্মসংস্থানের জন্য সংগ্রাম করে যাচ্ছেন মিজান মিয়া। গত ৬ সেপ্টেম্বর তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তরে টেলিফোন অপারেটর পদে নিয়োগের জন্য উপাচার্যের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সাবেক শিক্ষার্থী হিসেবে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়ে তিনি এই পদে কাজের সুযোগ চান।
বর্তমানে মিজান মিয়া ও তাঁর স্ত্রী ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার ঘাটুরা গৌতমপাড়ার আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি ঘরে বসবাস করছেন। অভাব অনটনের সংসারে তাঁদের জীবনযাপন অত্যন্ত দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। আয়ের কোনো স্থায়ী উৎস না থাকায় মানবেতর জীবন কাটাতে হচ্ছে এই দম্পতিকে।
নিজের বর্তমান অর্থনৈতিক ও পারিবারিক অবস্থা তুলে ধরে মিজান মিয়া বলেন, 'আমি বর্তমানে পুরোপুরি স্ত্রীর আয়ের ওপর নির্ভরশীল। আমার স্ত্রী একটি বেসরকারি হাসপাতালে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করেন। তাঁর আয়ে কোনোভাবে সংসার চলছে। কিন্তু তিনি অসুস্থ। বেশি দিন এই চাকরি করতে পারবেন না। তাই আমার একটি চাকরি খুব প্রয়োজন। কোনো করুণা নয়; মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে চাকরির প্রার্থনা করছি।'
মিজানের এই লড়াই এবং সংগ্রাম নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। বিশেষ করে প্রথম আলো পত্রিকায় তাঁর জীবনসংগ্রামের চিত্র উঠে এসেছে। এছাড়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলও তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছে এবং তাঁর কর্মসংস্থানের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছে।
মিজান মিয়ার চাকরির সুপারিশের বিষয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, 'দৃষ্টিশক্তি না থাকা সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত এসে পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন। তাঁর নিয়োগের বিষয়ে আমরা অবশ্যই সুপারিশ করব।'
বর্তমানে দেশের শীর্ষ স্থানীয় একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা শেষ করেও কর্মহীন থাকা মিজান মিয়ার পরিবারে চলছে আট হাজার টাকা বেতনের সমমানের টানাপোড়েন। তাঁর অসুস্থ স্ত্রীর আয়ের ওপর নির্ভরশীল এই পরিবারটির ভবিষ্যৎ এখন সম্পূর্ণ অনিশ্চিত। একটি স্থায়ী চাকরি পেলে তাদের এই দুঃসময় কাটবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।








