চিতলমারীতে কঠোর নিয়মে পড়াশোনা বাড়লেও শ্রেণिकক্ষ সংকট
বাগেরহাটের চিতলমারীর সাবোখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কঠোর নিয়ম চালুর ফলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়লেও তীব্র শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে খোলা আকাশের নিচে ক্লাস নিতে হচ্ছে। ১৯৬৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রায় আড়াইশ শিক্ষার্থী থাকলেও পাঠদানের পর্যাপ্ত জায়গা নেই।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলায় অবস্থিত সাবোখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কঠোর নিয়ম চালুর ফলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এর পাশাপাশি বিদ্যালয়টিতে তীব্র শ্রেণিকক্ষ সংকট দেখা দিয়েছে। জায়গা সংকুলান না হওয়ায় শিক্ষকদের বাধ্য হয়ে খোলা আকাশের নিচে ক্লাস নিতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা চরম দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনায় এই বিদ্যালয়ে বর্তমানে বেশ কিছু কঠোর নিয়ম কার্যকর করা হয়েছে। এসব নিয়মের অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীরা এখন নিয়মিত বাড়ি থেকে টিফিন আনে এবং বিদ্যালয়ে কোনো ধরনের মোবাইল বা মোটরসাইকেল নিয়ে আসে না। এই শৃঙ্খলামূলক ব্যব ্̄থার ফলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি মনোযোগ ও আগ্রহ অনেক বেড়ে গেছে বলে জানা গেছে।
১৯৬৭ সালে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী সাবোখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বর্তমানে প্রায় আড়াইশ শিক্ষার্থী রয়েছে। এর মধ্যে ২২৪ জন শিক্ষার্থী নিয়মিত ক্লাসে অংশ নিতে আসে। এত বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর নিয়মিত উপস্থিতির বিপরীতে বিদ্যালয়টিতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক শ্রেণিকক্ষ নেই। ফলে শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে পরিচালনা করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
শ্রেণিকক্ষ সংকটের তীব্রতা এতটাই প্রকট যে, বাধ্য হয়ে কিছু ক্লাস বিদ্যালয়ের খোলা আকাশের নিচে বটতলায় করাতে হচ্ছে। এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুস শাকুর বলেন, 'শ্রেণিকক্ষের অভাবে অনেক ক্লাস খোলা আকাশের নিচে বটতলায় করাতে হচ্ছে। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অনেক কষ্ট হয়। কিন্তু বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় কিছু করার নেই। বিদ্যালয়ের জন্য একটি নতুন ভবন খুবই প্রয়োজন।'
বিদ্যালয়ের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্টরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এ প্রসঙ্গে বিপদ ভঞ্জন মণ্ডল, খাদিজা আক্তার ও মৌসুমী বিশ্বাস তাদের মতামত তুলে ধরেছেন। বিদ্যালয়টির অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সংকট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
বিদ্যালয়ের সমস্যা তুলে ধরে লিমন বিশ্বাস ইউনুস বলেন, '১৯৬৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়ে প্রায় ২৫০ শিক্ষার্থী রয়েছে। কিন্তু তাদের পাঠদানের পর্যাপ্ত জায়গা নেই। তাই অবিলম্বে একটি নতুন চারতলা ভবন নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি।'
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বরাদ্দের বৈষম্য নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে লিমন বিশ্বাস ইউনুস আরও বলেন, 'কিছু মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কম হলেও চারতলা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। অথচ আমাদের বিদ্যালয়ে প্রচুর শিক্ষার্থী থাকা সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় শ্রেণিকক্ষ নেই। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।' অবিলম্বে একটি নতুন চারতলা ভবন নির্মাণ করে সাবোখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।








