চন্দনাইশে কাঞ্চন পেয়ারার ভরা মৌসুম, রয়েছে ১১ হাজার টন উৎপাদনের লক্ষ্য
চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলায় শুরু হয়েছে কাঞ্চন পেয়ারার ভরা মৌসুম। চলতি মৌসুমে ৭২০ হেক্টর জমিতে পেয়ারা বাগান রয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই ফল রপ্তানি করা হচ্ছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলায় এখন চলছে সুস্বাদু ‘কাঞ্চন পেয়ারা’র ভরা মৌসুম। ১৪ আগস্ট ২০২৬ তারিখে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, এই এলাকার কৃষকরা এখন পেয়ারা সংগ্রহ ও বাজারজাত নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। স্থানীয় কৃষি অর্থনীতির একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে এই কাঞ্চন পেয়ারা চাষ। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদিত এই ফল শুধু স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও পাঠানো হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে এই অঞ্চলে মোট ৭২০ হেক্টর জমিতে পেয়ারা বাগান রয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং কৃষকদের সঠিক পরিচর্যার ফলে এবার প্রায় ১১ হাজার টন পেয়ারা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, আবহাওয়া শেষ পর্যন্ত অনুকূলে থাকলে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে।
কাঞ্চন পেয়ারার চাষ নিয়ে স্থানীয় চাষি মোহাম্মদ আবদুল আজিজ বলেন, "অন্যান্য ফলের তুলনায় কাঞ্চন পেয়ারার উৎপাদন ব্যয় কম, অথচ বাজারমূল্য ভালো পাওয়া যায়। সঠিকভাবে পরিচর্যা করলে ফলনও অনেক বেশি হয়।" তার এই বক্তব্যের মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, কম খরচে অধিক লাভের কারণে কৃষকদের মাঝে এই পেয়ারা চাষ দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
স্থানীয় বাজারের গণ্ডি পেরিয়ে চন্দনাইশের এই কাঞ্চন পেয়ারা এখন আন্তর্জাতিক বাজারেও প্রবেশ করেছে। মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নিয়মিতভাবে কাঞ্চন পেয়ারা রপ্তানি করা হয়। জানা গেছে, প্রতি বছর এই উপজেলা থেকে প্রায় দেড় থেকে দুই কোটি টাকার কাঞ্চন পেয়ারা ও অন্যান্য জাতের পেয়ারা বিদেশে রপ্তানি হয়ে থাকে।
এ বিষয়ে রুনা সাহা বলেন, "কৃষিপণ্যের রপ্তানি বাড়লে একদিকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ তৈরি হবে, অন্যদিকে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মস্থান ও কৃষকের আয় বাড়বে। আধুনিক চাষাবাদ ও রপ্তানি প্রক্রিয়া সহজ করা গেলে চন্দনাইশকে কৃষিপণ্য রপ্তানির একটি সম্ভাবনাময় হাব হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।" তার এই মতামতে পেয়ারা রপ্তানির অর্থনৈতিক গুরুত্ব স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
এই পুরো কার্যক্রমে জসিম মিয়া, মোহাম্মদ ইসমাইল চৌধুরী হানিফ এবং আজাদ হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো যেমন চিটাগাং ফুডস অ্যান্ড ভেজিটেবলস এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় যুক্ত রয়েছে। তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ও স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় চন্দনাইশের কাঞ্চন পেয়ারা চাষ ও এর রপ্তানি কার্যক্রম দিন দিন আরও সুসংহত হচ্ছে।








