চন্দনাইশে কাঞ্চন পেয়ারার ভরা মৌসুম, রয়েছে ১১ হাজার টন উৎপাদনের লক্ষ্য
চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলায় শুরু হয়েছে সুস্বাদু কাঞ্চন পেয়ারার ভরা মৌসুম। চলতি মৌসুমে ৭২০ হেক্টর জমিতে পেয়ারা চাষ করা হয়েছে এবং প্রায় ১১ হাজার টন পেয়ারা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই পেয়ারা রপ্তানি করা হয়।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

১৪ আগস্ট ২০২৬ তারিখে প্রাপ্ত তথyl অনুযায়ী, চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলায় এখন চলছে সুস্বাদু ‘কাঞ্চন পেয়ারা’র ভরা মৌসুম। এখানকার মাটি ও আবহাওয়া পেয়ারা চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী হওয়ায় প্রতিবছরই এই ফলের ভালো ফলন পাওয়া যায়। স্থানীয় কৃষকদের নিবিড় পরিচর্যা এবং অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এবারও পেয়ারার বাগানগুলো ফলে ভরে উঠেছে।
উপজেলা কৃষি কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে চন্দনাইশ উপজেলায় মোট ৭২০ হেক্টর জমিতে পেয়ারা বাগান রয়েছে। এই বিস্তৃত বাগানগুলোতে নিয়মিত পরিচর্যা চালিয়ে যাচ্ছেন কৃষকরা। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার প্রায় ১১ হাজার টন পেয়ারা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে।
চন্দনাইশের উৎপাদিত এই কাঞ্চন পেয়ারার কদর কেবল স্থানীয় বাজারে সীমাবদ্ধ নয়, এটি এখন আন্তর্জাতিক বাজারেও স্থান করে নিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নিয়মিতভাবে কাঞ্চন পেয়ারা রপ্তানি করা হয়। এর মাধ্যমে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশের বাজারেও এই ফলের সুনাম ছড়িয়ে পড়ছে।
স্থানীয় চাষি ও কৃষি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এই ফলের অর্থনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। মোহাম্মদ আবদুল আজিজ কাঞ্চন পেয়ারার চাষাবাদ সম্পর্কে বলেন, অন্যান্য ফলের তুলনায় কাঞ্চন পেয়ারার উৎপাদন ব্যয় কম, অথচ বাজারমূল্য ভালো পাওয়া যায়। সঠিকভাবে পরিচর্যা করলে ফলনও অনেক বেশি হয়।
রপ্তানি প্রক্রিয়া ও এর সুফল নিয়ে রুনা সাহা মন্তব্য করেছেন, কৃষিপণ্যের রপ্তানি বাড়লে একদিকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ তৈরি হবে, অন্যদিকে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মস্থান ও কৃষকের আয় বাড়বে। আধুনিক চাষাবাদ ও রপ্তানি প্রক্রিয়া সহজ করা গেলে চন্দনাইশকে কৃষিপণ্য রপ্তানির একটি সম্ভাবনাময় হাব হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।
এই পুরো কার্যক্রমে চন্দনাইশের স্থানীয় কৃষক ও উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি যুক্ত রয়েছেন। এই তালিকায় মোহাম্মদ আবদুল আজিজ, জসিম মিয়া, মোহাম্মদ ইসমাইল চৌধুরী হানিফ, রুনা সাহা এবং আজাদ হোসেনের মতো ব্যক্তিরা বিভিন্নভাবে সম্পৃক্ত আছেন। এছাড়া উপজেলা কৃষি কার্যালয়, চিটাগাং ফুডস অ্যান্ড ভেজিটেবলস এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় পেয়ারা চাষ ও এর প্রসারে সংশ্লিষ্ট রয়েছে।
কৃষি অর্থনীতিতে এই কাঞ্চন পেয়ারার বিশেষ অবদান রয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, চন্দনাইশ থেকে প্রতি বছর প্রায় দেড় থেকে দুই কোটি টাকার কাঞ্চন পেয়ারা ও অন্যান্য জাতের পেয়ারা বিদেশে রপ্তানি হয়ে থাকে। ভরা মৌসুমে এই রপ্তানি ও স্থানীয় বিক্রি আরও বেড়ে যায়, যা চন্দনাইশের সামগ্রিক কৃষিখাতকে আরও শক্তিশালী করে তুলছে।








