চট্টগ্রামে ডেভিড ইমনের ৭ সহযোগী গ্রেফতার
চট্টগ্রামে সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজির মামলায় কারাগারে থাকা ডেভিড ইমনের ৭ সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার রাত থেকে পরিচালিত ২৪ ঘণ্টার অভিযানে তাদের গ্রেফতার করা হয় এবং অস্ত্রসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।
প্রকাশ: · আপডেট: ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকেল ৩:০২ · ১ মিনিট পড়া
চট্টগ্রামে সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজির একটি মামলায় কারাগারে বন্দि থাকা শীর্ষ অপরাধী ডেভিড ইমনের ৭ সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাত থেকে শুরু হওয়া ২৪ ঘণ্টার সাঁড়াশি অভিযানে তাদের বিভিন্ন এলাকা থেকে আটক করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে আসছিল এবং বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজি চালিয়ে যাচ্ছিল।
অভিযানের অংশ হিসেবে হাটহাজারী থানা ও বায়েজিদ বোস্তামী থানা যৌথভাবে এই কার্ক্রম পরিচালনা করে। গ্রেফতারকৃত ৭ সহযোগীর মধ্যে রয়েছে রাসেল মিয়া, কামরুল হাসান ওরফে সাগর, মো. রিকু, মো. মানিক, নুরুল আলম, আহমদুল্লাহ ওরফে মাসুম মেম্বর, আহমদ রেজা শাকিল, মো. তরিকুল ইসলাম ওরফে রোহিত, রায়হান, বড় সাজ্জাদ এবং কালা মোবারক। তবে পুলিশ সুনির্দিষ্টভাবে এই ৭ জনের আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের জন্য বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে একটি তলোয়ার, একটি চাপাতি, একটি ছুরি এবং একটি টিপছোরা। এছাড়া চাঁদাবাজির কাজে ব্যবহারের জন্য বিদেশি নম্বর সংবলিত ৪টি মোবাইল ফোনও জব্দ করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, যা তাদের যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম ছিল।
প্রাথমিক তদন্তে গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে আহমদ রেজা শাকილের বিরুদ্ধে রয়েছে ৮টি মামলা। এছাড়া মো. মানিকের বিরুদ্ধে ২টি এবং অন্যান্য আসামিদের বিরুদ্ধে ৩টি করে মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। অপরাধের সঙ্গে যুক্ত এই চক্রটি স্থানীয় জনগণের মাঝে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিল।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এই চাঁদাবাজ চক্রটি অত্যন্ত বেপরোয়া। তারা সাধারণ ব্যবসায়ী ও লোকজনের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিল। চাঁদা না দিলে তারা বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিত এবং বলত যে, "১০০ জন পুলিশ পাহারায় থাকলেও রক্ষা করা যাবে না"। তাদের এমন হুমকিতে এলাকাবাসী চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগত।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের এই ২৪ ঘণ্টার সফল অভিযانের ফলে এলাকায় স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে এবং তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তথ্যসূত্র: বাংলানিউজ২৪, জাগো নিউজ, সমকাল ও ইত্তেফাক
আপনার প্রতিক্রিয়া