খেতهاলে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগ
চলতি আমন মৌসুমে খেতলাল উপজেলায় সরকারি দামের চেয়ে বেশি দামে টিএসপি ও ডিএপি সার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। কৃষকদের কাছ থেকে ক্যাশ মেমো ছাড়াই অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

বাংলাদেশের খেতলাল উপজেলায় চলতি আমন মৌসুমে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রির গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিশেষ করে টিএসপি এবং ডিএপি সার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত দামে বিক্রি করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় কৃষকেরা চরম বিপাকে পড়েছেন এবং তাঁদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে।
চলতি আমন মৌসুমে সংশ্লিষ্ট এলাকায় কৃষিকাজ পুরোদমে চলছে। কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় ৭০ হাজার ৯৫ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ইতিমধ্যে ৯৭ শতাংশ জমিতে ধান রোপণ সম্পন্ন হয়েছে, যা কৃষকদের সার্বিক প্রস্তুতি ও ব্যস্ততাকে স্পষ্ট করে তোলে।
সরকার কৃষকদের জন্য সারের সুনির্দিষ্ট মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, ৫০ কেজির এক বস্তা টিএসপি সারের সরকারি দাম ১ হাজার ৩৫০ টাকা। তবে মাঠপর্যায়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই একই বস্তা টিএসপি সার ১ হাজার ৮০০ থেকে ১ হাজার ৯০০ টাকা পর্যন্ত চড়া দামে বিক্রি করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, ডিএপি সারের নির্ধারিত দাম ১ হাজার ৫০ টাকা হলেও কৃষকদের কাছ থেকে আরও বেশি অর্থ আদায় করা হচ্ছে। বাজারে প্রতি বস্তা ডিএপি সার ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৩৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা হচ্ছে, যা কৃষকদের উৎপাদন খরচ বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
অতিরিক্ত দাম নেওয়ার বিষয়ে ভুক্তভোগী কৃষকেরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। নুরুল সরদার ও মোফাজ্জল নামের দুই কৃষক অভিযোগ করে বলেন, 'দোকানে সরকারি মূল্যতালিকা ঝোলানো আছে। তারপরও বেশি দাম নেওয়া হচ্ছে। ক্যাশ মেমো চাইলে সার দিতে চায় না। বাধ্য হয়ে বেশি দাম দিয়ে সার কিনতে হচ্ছে।'
সার বিতরণের ব্যবস্থাপনায় খেতলাল উপজেলায় বিসিআইসির ৫৮ জন ডিলার, বিএডিসির ১১২ জন ডিলার এবং খুচরা পর্যায়ে ৩২৬ জন ডিলার নিয়োজিত রয়েছেন। এছাড়া চলতি মাসে ইউরিয়াসহ মোট ৯ হাজার ৬৫১ মেট্রিক টন সার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এত বরাদ্দ ও ডিলার থাকা সত্ত্বেও বেশি দাম নেওয়ার ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সার সংকট না থাকলেও দাম বেশি নেওয়ায় কৃষকদের সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপের দাবি উঠেছে। শাহজামান তালুকদার এ বিষয়ে মন্তব্য করে বলেন, 'কৃষকদের অভিযোগ সত্য হলে দায়িত্বশীলদের নজরদারি করতে হবে। সারের সংকট নেই, অথচ দাম বেশি নেওয়া হচ্ছে। সঠিকভাবে নজরদারি করা হলে কৃষকেরা উপকৃত হবেন।' কৃষি বিভাগ ও জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টিতে নজর দেবে বলে আশা করছেন ভুক্তভোগীরা।








