খুলনায় অসুস্থ শিশু জান্নাতুলের সুচিকিৎসার উদ্যোগ
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও দেখে ডা. জুবাইদা রহমানের উদ্যোগে খুলনায় অসুস্থ শিশু জান্নাতুল ফেরদৌসের চিকিৎসার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রোববার খুমেক হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে তাকে দেখতে যান এসএম মনিরুল হাসান বাপ্পী।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

৩০ আগস্ট খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে চিকিৎসাধীন শিশু জান্নাতুল ফেরদৌসের সুচিকিৎসার ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশু জান্নাতুলের পরিবারের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর এই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়। ভিডিওটি মূলত এই শিশুটির অসহায়ত্ব ও মানবেতর জীবনযাপনের চিত্র তুলে ধরেছিল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সেই ভিডিওটি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানের নজরে আসে। ভিডিওটি দেখার পরপরই তিনি অসুস্থ শিশু জান্নাতুলের চিকিৎসার খোঁজ নেওয়ার এবং সহায়তার উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দেন। ডা. জুবাইদা রহমানের এই নির্দেশনার ফলে শিশুটির চিকিৎসার পথ উন্মুক্ত হয়।
ডা. জুবাইদা রহমান তার এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংযুক্ত জেডআরএফের প্রোগ্রাম পরিচালক অধ্যাপক ডা. শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহকে পুরো বিষয়টি তদারকি করার নির্দেশ প্রদান করেন। এই নির্দেশ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করা হয়েছে।
এই বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়ে ডা. এমআর হাসান জানান, ডা. জুবাইদা রহমানের নির্দেশনা পাওয়ার পর হাসপাতালে যোগাযোগ শুরু করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, আগামী সোমবারই জান্নাতুলের সুচিকিৎসার সুব্যবস্থা নিশ্চিত করতে একটি বিশেষ মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হবে।
এদিকে রোববার দুপুরে খুমেক হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে চিকিৎসাধীন শিশু জান্নাতুলকে দেখতে যান জেলা পরিষদের প্রশাসক এসএম মনিরুল হাসান বাপ্পী। বিষয়টি নিয়ে শনিবার রাতে তাকে ফোন করা হয়েছিল বলে তিনি জানান। ফোন পাওয়ার পরপরই তিনি সরেজমিন হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং ভুক্তভোগী শিশু ও তার মায়ের সঙ্গেও কথা বলেন।
এসএম মনিরুল হাসান বাপ্পী জান্নাতুলের সুচিকিৎসার জন্য সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, জান্নাতুলের দ্রুত আরোগ্যের জন্য একটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করাসহ সব ধরনের প্রশাসনিক ও আর্থিক সহযোগিতা তাদের পক্ষ থেকে প্রদান করা হবে।
শিশুটির মা আজমিরা বেগম তাদের দুর্দশার কথা জানিয়ে বলেন, টাকার অভাবে চিকিৎসা চালানো সম্পূর্ণভাবে অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। তিনি আরও জানান, ঘটনার দুই দিন আগে এক ভদ্রলোক তাদের একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন যা পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। এই ভাইরাল হওয়া ভিডিওর মাধ্যমেই তাদের দুর্ভাগ্যের খবর ছড়িয়ে পড়ে এবং পরবর্তীতে জেলা পরিষদের প্রশাসক এসএম মনিরুল হাসান বাপ্পী এসে তাদের সুস্থ করে তোলার সব আশ্বাস দেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশু জান্নাতুল ফেরদৌসের শারীরিক অবস্থা বেশ জটিল। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, জান্নাতুলের দুটি পা সম্পূর্ণ নিস্তেজ হয়ে গেছে। পাশাপাশি তার শরীরে নার্ভের জটিলতা দেখা দিয়েছে এবং ইতোমধ্যে বেড সোরও সৃষ্টি হয়েছে।








