খাগড়াছড়িতে ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ধসে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন
ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে খাগড়াছড়ির দীঘিনালার বিভিন্ন নিচু অঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। চেঙ্গী ও মাইনী নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করায় এবং পাহাড়ধসের ঘটনায় সাজেকের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১৩· ১ মিনিট পড়া

খাগড়াছড়িতে টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ১২ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে এই দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। প্রথম আলো, সমকাল, রেড ক্রিসেন্ট ও জেলা প্রশাসন সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে। প্রবল বর্ষণের ফলে খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা সড়কের দুই অংশে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। এর ফলে সাজেকের সঙ্গে সব ধরনের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।
দীঘিনালা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র, খাগড়াছড়ি আবহাওয়া অফিস এবং খাগড়াছড়ি সড়ক ও জনপদ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত রাত ১২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত মাত্র তিন ঘণ্টায় এই উপজেলায় ১০৩ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। দীঘিনালা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের কর্মকর্তা সুভূধি চাকমা জানান, গতকাল রাতে মাত্র তিন ঘণ্টায় উপজেলায় ১০৩ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে এত কম সময়ে এমন বৃষ্টি আর হয়নি।
ভারী এই বৃষ্টির কারণে দীঘিনালার মেরুং, কবাখালী, হামতলী ও বেয়োলখালী এলাকার নিচু অঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া চেঙ্গী ও মাইনী নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। হঠাৎ এমন বন্যায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দারা জানান, আকস্মিক এই পানিতে তাদের ঘরবাড়ি তলিয়ে গেছে। স্থানীয় বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন বলেন, রাতে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। সকালে উঠে দেখি ঘরে পানি। গত মাসের শুরুতে হওয়া বন্যায়ও আমাদের ঘরে পানি ঢোকেনি। কিন্তু গতকাল রাতের বৃষ্টিতে পানি উঠে গেছে। আশপাশের এলাকাগুলো ডুবে গেছে।
স্থানীয় আরেক বাসিন্দা অনলেন্দু ত্রিপুরা এই অস্বাভাবিক বৃষ্টির বিষয়ে বলেন, গতকাল রাতে সবকিছু স্বাভাবিক ছিল। আশপাশের পাহাড়ি ছড়ায় খুব একটা পানি ছিল না। এত বৃষ্টি এ বছরে আর দেখিনি। সৌম্য তালুকদার এবং মো. আনোয়ার সাদাত এই পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন।
এদিকে আকস্মিক এই বন্যা ও পাহাড়ধসের পর স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করছে। পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টির কারণে খাগড়াছড়ির যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে সড়ক ও জনপদ বিভাগ তৎপর রয়েছে। তবে সাজেকের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ থাকায় দুর্গম এলাকার মানুষদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।








