কুড়িগ্রামের রাজারহাটে তিস্তার ভাঙনে ক্রসবাঁধ ধস, ঝুঁকিতে ২০ হাজার মানুষ
কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার বুড়িরহাট এলাকায় তিস্তা নদীর তীব্র স্রোতে একটি ক্রসবাঁধের প্রায় ৪০ মিটার অংশ ধসে গেছে। এতে ছয়টি গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ ও পাঁচটি বাজার হুমকির মুখে পড়েছে। ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রায় ৩০ হাজার জিও ব্যাগ ফেলছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার বুড়িরহাট এলাকায় তিস্তা নদীর তীব্র স্রোতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্রসবাঁধের প্রায় ৪০ মিটার অংশ ধসে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। আকস্মিক এই ভাঙনের ফলে স্থানীয় জনজীবন ও অবকাঠামো মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। নদীপারের মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
এই ভাঙনের ঘটনায় কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার অন্তত ছয়টি গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ সরাসরি ঝুঁকির মধ্যে পড়েছেন। এছাড়া নদীর গতিপ্রকৃতির কারণে এলাকার পাঁচটি বাজারও বর্তমানে মারাত্মক হুমকির মুখে রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পানি উন্নয়ন বোর্ড বা পাউবো তাৎক্ষণিকভাবে তৎপরতা শুরু করেছে। সংস্থাটির পক্ষ থেকে জরুরি ভিত্তিতে প্রায় ৩০ হাজার জিও ব্যাগ ফেলে ক্ষতিগ্রস্ত অংশে রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চালানো হচ্ছে। ভাঙন রোধে এই অস্থায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হলেও স্থানীয়দের শঙ্কা কাটছে না।
নদীর এই ভাঙন নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা নূর মোহাম্মদ তাঁর উদ্বেগের কথা জানান। তিনি বলেন, প্রতি দুই-এক বছর পরপর নদীভাঙনে বাঁধটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তখন জিও ব্যাগ দিয়ে সাময়িকভাবে সংস্কার করা হয়। কিন্তু ভাঙন প্রতিরোধে স্থায়ী সমাধান না হলে এ সমস্যা চলতেই থাকবে।
স্থায়ী সমাধানের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে আরেক স্থানীয় বাসিন্দা মামুন বলেন, তিস্তার ভাঙন প্রতিরোধে স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই। এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে এই দাবি জানিয়ে আসলেও স্থায়ী কোনো সুরাহা মেলেনি।
বর্তমানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর কাজ চলমান রয়েছে। তবে ভাঙনাকবলিত এলাকার মানুষ আশঙ্কা করছেন, নদীর তীব্র স্রোত অব্যাহত থাকলে এই অস্থায়ী সুরক্ষাবলয় টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।








