কলকাতায় হোটেলে আগুন: ৭ বাংলাদেশি সহ নিহত ৯
ভারতের কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৯ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। নিহতদের মধ্যে ৭ জনই বাংলাদেশের নাগরিক এবং বাকি ২ জন ভারতীয়।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

ভারতের কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটে 'শিখা ইন' নামক একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার রাতে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। অগ্নিকাণ্ডের ফলে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং উদ্ধারকাজ শুরু হয়।
এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মোট ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ৭ জন বাংলাদেশের নাগরিক এবং অপর ২ জন ভারতীয় নাগরিক। এই হতাহতের ঘটনায় দুই দেশেই শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
প্রাথমিক তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। জানা গেছে, ওই হোটেলটির কোনো ফায়ার লাইসেন্স বা অগ্নিনির্বাপক লাইসেন্স ছিল না। পাশাপাশি, দীর্ঘদিন ধরে হোটেলটিতে কোনো ধরনের নিরাপত্তা অডিট বা পরীক্ষা করা হয়নি।
দুর্ঘটনার সময় হোটেলের ভেতরে থাকা মো. আসাদুজ্জামান তার ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানান। তিনি বলেন, 'পাঁচ তলায় ছিলাম। অগ্নিকাণ্ডের পরই কোনক্রমে নিজের পরনের গেঞ্জি নাকচাপা দিয়ে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছি। আর এক মিনিট হলেই আমিও হয়তো মারা যেতে পারতাম।'
এই ঘটনার পর রাজনৈতিক অঙ্গনেও প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিজেপির নবীন মিশ্র অভিযোগ করে বলেন, 'আগের বামফ্রন্ট ও তৃণমূল কংগ্রেসের সরকারের আমলের অবৈধভাবে একের পর এক হোটেলকে লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। রেসিডেন্সিয়াল ভবনগুলোকে বাণিজ্যিক ভবন করে দেওয়া হয়েছে।'
সিপিআইএম নেতা মোহাম্মদ সেলিম এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, 'বাংলাদেশ থেকে প্রচুর মানুষ এই কলকাতায় আসে। অতিথি দেবতার সমান। কিন্তু তাদের জন্য কলকাতা পুলিশ রাজ্য সরকার কীব্যবস্থা নিয়েছে? বাংলাদেশেও যে আগুন লাগার না তা নয়! কিন্তু একটা আগুন লাগার পর দোষারোপ না করে কারণ খুঁজতে হয় এবং ভবিষ্যতে যাতে এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয় তার ব্যবস্থা নিতে হয়। কিন্তু যদি দুর্নীতি হয়, তবে পুরসভা, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ কিছু অর্থের বিনিময়ে ফের বেআইনি কাজ করার অনুমতি দেবে।'
ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নড়েচড়ে বসেছে। কলকাতা পুলিশ ও দমকল বাহিনী যৌথভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করছে। হোটেল খাতের অনিয়ম এবং নিরাপত্তার অভাব নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি ৭২ ঘণ্টার মধ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি কলকাতার ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ হোটেলের নিরাপত্তা ও লাইসেন্স সংক্রান্ত বিষয়গুলো খতিয়ে দেখবে বলে জানা গেছে।








