কনিকা রানীর মৃত্যু: কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুশিয়ারি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
পেটে গজ রেখেই সিজারিয়ান অপারেশন করার অভিযোগে মারা যাওয়া কনিকা রানীর বাড়ি পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এ সময় তিনি ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুশিয়ারি দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ব্যক্তিগতভাবে ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

ভুল চিকিৎসায় প্রসূতি মৃত্যুর ঘটনায় রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের বাঘুটিয়া গ্রাম পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। ২১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে এই পরিদর্শনের সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন ও বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। ঘটনাস্থলে পেটে গজ রেখে সেলাই দেওয়ার কারণে মারা যাওয়া কনিকা রানী বা কনিকা মণ্ডলের পরিবারের সঙ্গে তিনি কথা বলেন এবং তাদের প্রতি সমবেদনা জানান।
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, গত ২৯ জুন ফরিদপুরের সমরিতা হাসপাতালে ডা. লক্ষ্মী রানী দত্তের মাধ্যমে কনিকা রানীর সিজারিয়ান অপারেশন সম্পন্ন হয়েছিল। অপারেশন পরবর্তীতে শারীরিক জটিলতা দেখা দিলে তাকে বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা নেওয়া হয় এবং ১৯ আগস্ট দিবাগত রাত সোয়া ২টার দিকে ঢাকার কল্যাণপুরের ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কনিকা রানী মারা যান। পেটে গজ রেখেই চিকিৎসকরা সিজারের সেলাই সম্পন্ন করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা বরদাস্ত করা হবে না। চিকিৎসা অবহেলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিধিমোতাবেক কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, আমাদের অবহেলার কারণে একজন মায়ের মৃত্যু মেনে নেওয়া যায় না। পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জানাতে আমি এখানে এসেছি। এই পরিবারের পাশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী এবং সরকার থাকবে।
এই অনভিপ্রেত মৃত্যুর ঘটনার নেপথ্যের কারণ উদঘাটনে তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় থেকে ইতোমধ্যে একটি পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে এই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা আরও ত্বরান্বিত হবে।
দুর্গত ও শোকসপ্তপ্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর অংশ হিসেবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন তার ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছেন। ২১ আগস্ট রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দির বাঘুটিয়া গ্রামে কনিকার বাড়িতে গিয়ে তার স্বামী অশান্ত মণ্ডল ও অন্যান্য শোকাহত স্বজনদের হাতে এই সহায়তার অর্থ তুলে দেওয়া হয়।
এ সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে এবং স্থানীয় পর্যায়ে উপস্থিত ছিলেন আফরোজা পারভীন, ডা. এসএম মাসুদ, মো. শামসুল হক, তারিফ উল হাসান, চৌধুরী মুস্তাফিজুর রহমান, ডা. মো. ফারুক হোসেন, আবদুর রব তালুকদার, গোলাম শওকত সিরাজ এবং গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়াসহ স্থানীয় বিএনপি ও প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী ও ব্যক্তিবর্গ। চিকিৎসার চরম অবহেলার শিকার এই প্রসূতির পরিবার ও এলাকাবাসী এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষী চিকিৎসকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।








