কনসার্ট ট্যুরিজম: বিশ্বজুড়ে নতুন পর্যটন ট্রেন্ড
ভক্তরা পছন্দের শিল্পীর কনসার্ট দেখতে বিভিন্ন শহর ও দেশে ভ্রমণ করছেন, যা 'কনসার্ট ট্যুরিজম' হিসেবে পরিচিত। এই ট্রেন্ডের ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে হাজার হাজার কোটি টাকার আর্থিক প্রভাব পড়ছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১৩· ১ মিনিট পড়া

বিশ্বজুড়ে সংগীতপ্রেমীদের মাঝে সম্প্রতি একটি নতুন ধারা বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেছে, যা 'কনসার্ট ট্যুরিজম' নামে পরিচিত। এই ধারার আওতায় ভক্তরা কেবল নিজ শহরে নয়, বরং পছন্দের শিল্পীর কনসার্ট উপভোগ করতে এবং একই সঙ্গে দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখতে বিভিন্ন শহর ও দেশে ভ্রমণ করছেন। এশিয়া ও উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন গন্তব্যে এই ট্যুরিজমের ব্যাপক বিস্তার ঘটেছে।
এই ট্রেন্ডের সবচেয়ে বড় উদাহরণ টেইলর সুইফটের 'দ্য ইরাস ট্যুর'। এই কনসার্ট ট্যুরটি ২০২৩ সালে শুরু হয়ে ২০২৪ সালে সফলভাবে শেষ হয়। ফোর্বস, অ্যাসোসিয়েট প্রেস এবং ক্লাব এলায়েন্সের তথ্য অনুযায়ী, টেইলর সুইফটের এই সুবিশাল ট্যুরে ৫ মহাদেশে মোট ১৪৯টি কনসার্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে।
কনসার্ট কেন্দ্র করে ভক্তদের এই ভ্রমণ বিশ্ব অর্থনীতিতে বিশাল ভূমিকা রাখছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, টেইলর সুইফটের দ্য ইরাস ট্যুরের কনসার্টের টিকিট বিক্রি থেকেই দুই বিলিয়ন ডলারের বেশি আয় হয়েছে। কোয়েশ্চেন প্রোর গবেষণা অনুযায়ী, ২০২৩ ও ২০২৪ সাল মিলিয়ে কেবল উত্তর আমেরিকাতেই ভোক্তা ব্যয়ের পরিমাণ ছিল প্রায় ৫ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার।
স্থানীয় অর্থনীতিতেও এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে। উদাহরণস্বরূপ, কানাডার ভ্যাঙ্কুভারের অর্থনীতিতে টেইলর সুইফটের দ্য ইরাস ট্যুরের শেষ তিনটি শো-র কারণে প্রায় ১৫৭ মিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক প্রভাব পড়েছে। কনসার্ট কেন্দ্র করে পর্যটকদের এই আগমন সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের হোটেল, রেস্তোরাঁ ও অন্যান্য ব্যবসার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
কনসার্ট ট্যুরিজমের এই জোয়ার কেবল পশ্চিমা বিশ্বেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এশিয়ায় এর ব্যাপক প্রসার ঘটছে। এর অংশ হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় ব্যান্ড বিটিএস ২০২৬ সালে বিশ্বভ্রমণের ঘোষণা দিয়েছে। এই বিশ্বভ্রমণের অংশ হিসেবে ব্যান্ডটি ২০২৬ সালের নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে ব্যাংকক, কুয়ালালামপুর, সিঙ্গাপুর ও জাকার্তাসহ এশিয়ার বিভিন্ন শহরে কনসার্ট পরিচালনা করবে।
লন্ডন, প্যারিস, আমস্টারডাম এবং ভ্যাঙ্কুভারের মতো প্রধান প্রধান শহরগুলোও এখন এই কনসার্ট ট্যুরিজমের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। সংগীতশিল্পীদের আন্তর্জাতিক ট্যুর এবং ভক্তদের এই শহরভিত্তিক ভ্রমণ বিশ্ব পর্যটন শিল্পে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে, যা ভবিষ্যতে আরও সম্প্রসারিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।








