ওষুধ ও ভেষজ পণ্যে যকৃতের মারাত্মক ক্ষতির ঝুঁকি
ওভার-দ্য-কাউন্টার ওষুধ, ভেষজ পণ্য এবং খাদ্য পরিপূরক সেবনের ফলে যকৃতে গুরুতর আঘাত বা ডিআইএলআই হতে পারে। প্যারাসিটামলের মতো ওষুধ অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে যকৃতের মারাত্মক ক্ষতি ও যকৃতের বিকলতা দেখা দিতে পারে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

অতিরিক্ত ওষুধ ব্যবহারের ফলে মানবদেহে নানা ধরনের জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে অন্যতম একটি মারাত্মক ঝুঁকি হলো যকৃতের ক্ষতি হওয়া। বিশেষ করে প্যারাসিটামলের মতো সাধারণ ওষুধগুলো অতিরিক্ত মাত্রায় সেবন করলে তা যকৃতের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। এমনকি এর ফলে যকৃত সম্পূর্ণ বিকল হয়ে যাওয়ার মতো প্রাণঘাতী পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে।
শুধু আধুনিক ওষুধই নয়, এর পাশাপাশি বিভিন্ন ভেষজ পণ্য এবং খাদ্য পরিপূরক বা ডায়েটরি সাপ্লিমেন্টও যকৃতের ক্ষতির কারণ হতে পারে। অনেক মানুষই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া বা যত্রতত্র এসব ভেষজ পণ্য ও পরিপূরক গ্রহণ করে থাকেন, যা পরবর্তীতে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
চিকিৎসা বিজ্ঞান অনুযায়ী, বিভিন্ন ওষুধ, ভেষজ উপাদান বা পরিপূরক সেবনের কারণে যকৃতে যে ধরনের আঘাত বা ক্ষতি সাধিত হয়, তাকে ‘ড্রাগ-ইনডিউসড লিভার ইনজুরি’ বা সংক্ষেপে ডিআইএলআই (DILI) বলা হয়ে থাকে। এই চিকিৎসাগত পরিভাষার মাধ্যমে ওষুধ বা এজাতীয় উপাদানের বিষাক্ত প্রতিক্রিয়ায় যকৃতের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি নির্দেশ করা হয়।
ওষুধ বা পরিপূরক সেবনের ফলে যকৃতে এই ধরনের আঘাত বা ডিআইএলআই হলে শরীরে বেশ কিছু লক্ষণ প্রকাশ পেতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তিরা সাধারণত অস্বাভাবিক ক্লান্তি অনুভব করেন। এর পাশাপাশি বমি বমি ভাব এবং বমি হওয়ার উপসর্গও দেখা দিতে পারে।
যকৃতের এই ক্ষতির আরও কিছু স্পষ্ট লক্ষণের মধ্যে রয়েছে ক্ষুধামন্দা বা খাওয়ার প্রতি অনীহা তৈরি হওয়া এবং পেটের উপরিভাগে বা পেটে অস্বস্তি অনুভূত হওয়া।
রোগের তীব্রতা বাড়লে শরীরের আরও কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। এর মধ্যে প্রস্রাবের রঙ গাড় হওয়া অন্যতম একটি লক্ষণ। এছাড়া যকৃতের কার্যকারিতা ব্যাহত হওয়ার কারণে ত্বক ও চোখ হলুদ হয়ে যাওয়ার মতো জন্ডিসের লক্ষণও প্রকাশ পেতে পারে।








