ইবিতে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষ এবং মহাসড়ক অবরে
কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষ ও উত্তেজনার ঘটনা ঘটেছে। শহীদ জিয়াউর রহমান হলে এক নেতাকে চড় মারার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরে পুলিশ ও প্রক্টরীয় বডি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে এবং মহাসড়ক অবরোধ করা হয়।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

২০২৫ সালের ৫ সেপ্টেম্বর কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলে এই ঘটনার সূত্রপাত হয়। হলের ভেতর সাধারণ একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে দুই সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়, যা পরবর্তীতে পুরো ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কাজী জুহায়ের জানান, মূলত খাওয়া-দাওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি হলের ভেতরে প্রবেশ করেছিলেন। তার পায়ের লিগামেন্টে সমস্যার কারণে তিনি ক্রাচে ভর করে আস্তে আস্তে যাচ্ছিলেন। সিঁড়ির কাছাকাছি পৌঁছালে হঠাৎ করে পাশ থেকে আলীনূর রহমান এসে তাকে চড় মারেন। পূর্বে তার সঙ্গে কোনো বিরোধও ছিল না বলে তিনি জানান। তিনি হতভম্ব হয়ে তাকে কারণ জিজ্ঞেস করলে আলীনূর তাকে জানান যে তিনি বেয়াদব তাই মেরেছেন এবং যা পারিস করিস, তার ইচ্ছা হয়েছে তাই মেরেছেন বলে জানান।
অন্যদিকে এই বিষয়ে অভিযুক্ত ছাত্রদলকর্মী আলীনূর রহমান জানান, তিনি তার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তাকে বেয়াদব বলেন। পরে তিনি তাকে গালি দেন এবং এই সময়ে তিনি তাকে থাপ্পড় দেন। তবে আলীনূর স্বীকার করেন যে তার সাথে পূর্বে তার কোনো সমস্যা ছিল না। এই ঘটনার জেরে ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়।
পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হলে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন মাসুদ রুমী মিথুন। তিনি জানান, ঘটনাটি জানতে পেরে তারা সমাধানের উদ্দেশ্যে প্রভোস্ট, প্রক্টর, ছাত্র-উপদেষ্টাসহ শিবিরের নেতাকর্মীদের সঙ্গে বসেন। কিন্তু শিবিরের পক্ষ থেকে সমাধানের পথে না গিয়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়। একপর্যায়ে হলের বাইরে তাদের সদস্য সচিবকে ধাক্কাধাক্কি করা হয় এবং পরে তারা সেখান থেকে চলে আসেন। তিনি অভিযোগ করেন যে সারা বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর হলগুলো শিবির দখল করেছে এবং তাদের সংযত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে নিরাপদ ক্যাম্পাসকে উত্তপ্ত না করার অনুরোধ জানান।
ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে রাশেদুল ইসলাম রাফি বলেন, ঘটনার প্রথম সূত্রপাত ছাত্রদলকর্মী আলীনূরের হাত ধরে হয়। তবে তারা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। এরপরও ছাত্রদল দেশীয় অস্ত্রসহ স্থানীয়দের নিয়ে মেইনগেটে অবস্থান গ্রহণ করে এবং স্থানীয় জামায়াত কর্মীদের ওপর হামলা করে আহত করে। তবে তারা তখনও ধৈর্যের সাথে পরিস্থিতি মোকাবেলা করছিলেন এবং প্রক্টর অফিসে আলোচনায় বসেন যাতে একটি সুন্দর সমাধান হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির শাহীনুজ্জামান জানান, তারা এই ঘটনা শুনতে পেরে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে যান এবং উভয় পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। পরে ইবি থানা পুলিশের সহযোগিতায় অভিযুক্তকে নিরাপদে প্রক্টর অফিসে নিয়ে আসেন এবং উভয় পক্ষকে নিয়ে ঘটনা সমাধান করার চেষ্টা করেন। এই ঘটনার পর ছাত্রদল ও বিএনপি নেতাকর্মীরা কুষ্টিয়া-খুলনা মহাসড়কের প্রধান গেটের কাছে অবরোধ সৃষ্টি করেন এবং পুলিশের গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।








