কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় লতিকচু চাষে গৃহিণী শিরিনা খাতুনের বড় সাফল্য
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় ২০ শতক পতিত জমিতে বারি-পানিকচু-১ জাতের লতিকচু চাষ করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন গৃহিণী শিরিনা খাতুন। উপজেলা কৃষি অফিসের সহায়তায় এই চাষ করে তিনি আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার আশা করছেন।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলায় বারি-পানিকচু-১ জাতের লতিকচু চাষ করে এক অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছেন গৃহিণী শিরিনা খাতুন। চলতি মৌসুমের মে মাস থেকে শুরু হওয়া এই উদ্যোগে তিনি নিজের ভাগ্য পরিবর্তনের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছেন। স্থানীয় কৃষকদের মাঝেও তাঁর এই সাফল্য ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।
জানা গেছে, শিরিনা খাতুন কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার ধরমপুর ইউনিয়নের স্বরুপের ঘোপ গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা। তাঁর এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে উপজেলা কৃষি অফিসের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা। মূলত উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শ ও টেকসই কৃষি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় তাঁকে প্রয়োজনীয় চারা, সার ও বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল।
কৃষি বিভাগের এমন সময়োপযোগী সহায়তায় উদ্বুদ্ধ হয়ে শিরিনা খাতুন তাঁর বাড়ির আশপাশের ২০ শতক পতিত জমিতে বারি-পানিকচু-১ জাতের লতিকচু চাষ শুরু করেন। বর্ষার সময়ে সাধারণত পানিতে ডুবে যাওয়া এসব নিচু ও স্যাঁতসেঁতে জমি নিয়ে এলাকার অন্য কৃষকদের তেমন কোনো আগ্রহ বা পরিকল্পনা ছিল না।
তবে সেই ধারণাকে সম্পূর্ণ পাল্টে দিয়ে শিরিনা খাতুন প্রমাণ করেছেন যে, এমন স্যাঁতসেঁতে জমিতেও কচুর সফল আবাদ করা সম্ভব। এ বিষয়ে ভেড়ামারা উপজেলা কৃষি অফিসের সদরুল ইসলাম বলেন, বর্ষায় পানিতে ডুবে যাওয়া নিচু জমি নিয়ে কৃষকদের আগ্রহ কম ছিল। শিরিনা খাতুন প্রমাণ করেছেন, এমন স্যাঁতসেঁতে জমিতেও কচুর সফল আবাদ অর্থনৈতিক উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
চাষ শুরুর মাত্র ৬০ থেকে ৭০ দিনের মধ্যেই খেত থেকে লতি সংগ্রহ করার উপযোগী হয়ে ওঠে। বর্তমানে উৎপাদিত লতি স্থানীয় বাজারে নিয়মিত বিক্রি করা হচ্ছে। সফল এই চাষি শিরিনা খাতুন তাঁর বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে জানান, 'বর্তমানে প্রতি সপ্তাহে এক থেকে দুই মণ লতি বাজারে সরবরাহ করছি। পুরো মৌসুমে লতি বিক্রি করে ১ লাখ থেকে দেড় লাখ টাকা আয় হবে বলে আশা করছি। লাভজনক হওয়ায় ভবিষ্যতে আরো বেশি জমিতে এই সবজি চাষ করার ইচ্ছা আছে।'
স্থানীয় কৃষি বিভাগ ও মাহমুদা সুলতানা পলি-র মতো সংশ্লিষ্টদের তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রামীণ জনপদে নারী উদ্যোক্তা সৃষ্টির অনন্য এক উদাহরণ তৈরি হয়েছে। ২০ শতক জমির এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা থেকে যে অর্থনৈতিক সচ্ছলতার পথ তৈরি হয়েছে, তা ভেড়ামারা উপজেলার অন্য কৃষকদের মাঝেও পতিত জমি ব্যবহারে নতুন প্রেরণা জুগিয়েছে।








