ইন্দোনেশিয়ায় মাউন্ট Anak Krakatau-এর অগ্ন্যুৎপাত, ফ্লাইট স্থগিত
ইন্দোনেশিয়ার মাউন্ট Anak Krakatau আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের কারণে সোয়েকার্নো-হাট্টা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে। আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, এর ফলে ৩৩টি ফ্লাইট প্রভাবিত হয়েছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকেল ৪:০২· ১ মিনিট পড়া

ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় মাউন্ট Anak Krakatau আগ্নেয়গিরির ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাতের জেরে বিমান চলাচলে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটেছে। ইন্দোনেশিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশে দেশটির প্রধান সোয়েকার্নো-হাট্টা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল স্থগিত করা হয়েছে। গত ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়।
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, মাউন্ট Anak Krakatau আগ্নেয়গিরিটি গত শুক্রবারের শেষের দিকে প্রথম অগ্ন্যুৎপাত শুরু করে। এরপর পরিস্থিতির ধারাবাহিকতায় গত রবিবার এই আগ্নেয়গিরিতে আরও দুটি নতুন অগ্ন্যুৎপাত রেকর্ড করা হয়। প্রকৃতির এই আকস্মিক তাণ্ডবে পুরো এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
বিমানের চলাচলের নিরাপত্তার ওপর বিশেষ জোর দিয়ে ইন্দোনেশিয়ার বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ ও এয়ারলাইন্সগুলো জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করে। বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে মোট ৩৩টি ফ্লাইট এই সিদ্ধান্তের আওতায় পড়ে। এর মধ্যে ১৬টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে এবং ৭টি ফ্লাইটে মারাত্মক বিলম্ব ঘটে।
পরিস্থিতির গুরুত্ব তুলে ধরে লুসমান এফ লায়সা (Lukman F Laisa) একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, বিমান সংস্থাগুলির করা ফ্লাইট সময়সূচীর সামঞ্জস্য সহ প্রতিটি অপারেশনাল সিদ্ধান্তে নিরাপত্তাই সর্বদা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পায় (Safety remains the top priority in every operational decision, including flight schedule adjustments made by airlines)।
এই অগ্ন্যুৎপাতের ফলে ছাইয়ের বিশাল মেঘ চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের কারণে উৎপন্ন ছাই ও ধোঁয়া ১৫,০০০ মিটার বা ২০,০০০ ফুট থেকে শুরু করে বিভিন্ন উচ্চতায় বায়ুমণ্ডলে বিস্তার লাভ করে। এই ছাইয়ের ব্যাপ্তি ১৫০ কিলোমিটার বা ৯৩ মাইল থেকে শুরু করে প্রায় ৭০০ কিলোমিটার বা ৪৩৫ মাইল পর্যন্ত এলাকায় প্রভাব ফেলে।
উদ্বেগজনক এই পরিস্থিতিতে প্রায় ৪০০ মানুষ সরাসরি প্রভাবিত হয়েছেন। আল জাজিরার প্রতিবেদন এবং BMKG-এর তথ্য অনুযায়ী, সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে তাদের শিডিউলে পরিবর্তন আনতে বাধ্য হয়েছে।
তবে সাধারণ মানুষের মাঝে যাতে কোনো ধরনের আতঙ্ক ছড়িয়ে না পড়ে, সেজন্য ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা (Indonesia’s disaster mitigation agency) স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, এই অগ্ন্যুৎপাতের ফলে কোনো তাৎক্ষণিক সুনামি বা তsunami ঝুঁকির আশঙ্কা নেই। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।








