ইউরোপে উগ্র ডানপন্থীদের উত্থান ও এএফডির সাফল্য আলোচিত
ফ্রান্স ২৪-এর বিশেষ আলোচনায় ইউরোপে উগ্র ডানপন্থী রাজনীতির উত্থান এবং জার্মানির স্যাক্সনি-আনহালটে এএফডির যুগান্তকারী সাফল্যের বিষয়টি উঠে এসেছে। অনুষ্ঠানে ডোনাল্ড ট্রাম্প, জর্জিয়া মেলোনি ও সানচেজের প্রসঙ্গও আলোচিত হয়।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

ইউরোপজুড়ে উগ্র ডানপন্থী রাজনীতির ক্রমবর্ধমান বিস্তার এবং জার্মানির রাজনৈতিক অঙ্গনে তার প্রভাব নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ফ্রান্স ২৪-এ একটি বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০২৬ সালের ৭ সেপ্টেম্বর প্রচারিত এই অনুষ্ঠানে ইউরোপীয় রাজনীতির বর্তমান গতিপ্রকৃতি এবং উগ্র ডানপন্থীদের উত্থানের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়।
আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল জার্মানির স্যাক্সনি-আনহালট রাজ্যে অলটারনেটিভ ফর জার্মানি বা এএফডি দলের উল্লেখযোগ্য সাফল্য। সাম্প্রতিক সময়ে এই অঞ্চলে এএফডি তাদের রাজনৈতিক শক্তিমত্তা প্রমাণ করেছে এবং একটি বড় ধরনের breakthroughs বা সাফল্য অর্জন করেছে, যা পুরো ইউরোপীয় ইউনিয়নের জন্যই একটি বড় রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ফ্রান্স ২৪-এর এই অনুষ্ঠানে উপস্থাপক অ্যানেট ইয়ং এবং ফিলিপ টার্লে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তাদের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেন ফ্রান্সের সাবেক বিশিষ্ট কূটনীতিক সিলভি বেরমান। তিনি তার বর্ণাঢ্য কূটনৈতিক জীবনে এক অনন্য রেকর্ডের অধিকারী; সিলভি বেরমান হলেন ফ্রান্সের প্রথম নারী রাষ্ট্রদূত যিনি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের তিনটি স্থায়ী সদস্য দেশ—চীন, যুক্তরাজ্য এবং রাশিয়ায় রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করেছেন।
অনুষ্ঠানে কেবল জার্মানি নয়, বরং সামগ্রিক ইউরোপীয় ভূরাজনীতি এবং বৈশ্বিক নানা নেতার রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে কথা হয়। বিশেষ করে ইতালির বর্তমান রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রসঙ্গ টেনে আনা হয়। জর্জিয়া মেলোনির নেতৃত্বাধীন সরকার দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে ইতালিতে সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী সরকার হিসেবে টিকে থাকার রেকর্ড গড়েছে, যা ইউরোপীয় ডানপন্থী রাজনীতির একটি নতুন ধারাকে ফুটিয়ে তোলে।
এছাড়াও বিশ্বমঞ্চের প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং স্পেনের প্রধানমন্ত্রী সানচেজের রাজনৈতিক পদক্ষেপ ও তার প্রভাব নিয়েও অনুষ্ঠানে বিশদ আলোচনা করা হয়। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে উগ্র ডানপন্থী ও পপুলিস্ট শক্তির এই উত্থান কীভাবে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রভাবিত করছে এবং এর দীর্ঘমেয়াদী ভূরাজনৈতিক ফলাফল কী হতে পারে, তা সিলভি বেরমানের কূটনৈতিক অভিজ্ঞতার আলোকে বিশ্লেষণ করা হয়।
ফ্রান্স ২৪-এর এই বিশেষ আয়োজনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভেতরে ও বাইরে ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং উগ্র ডানপন্থী দলগুলোর জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির কারণগুলো স্পষ্ট হয়ে ওঠে। স্যাক্সনি-আনহালটে এএফডির সাফল্য এবং বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের এই গতিধারা আগামী দিনে ইউরোপের নীতি নির্ধারণী প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।








