ইউক্রেনে রাশিয়ার ড্রোন-মিসাইল হামলা, নিহত বেড়ে ২৭
শনিবার ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে রাশিয়া ও ইউক্রেনের পাল্টাপাল্টি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বড় ধরনের হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। কিয়েভের কাছে একটি গুদামে রুশ হামলায় ২৭ জন নিহত ও ৪২ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে রাশিয়ার বেলগোরোদ ও সেভাস্তোপলেও ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

শনিবার ইউক্রেনজুড়ে তীব্র রুশ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং এর জবাবে রাশিয়ার ভেতরে ইউক্রেনের ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চল লক্ষ্য করে রাশিয়া দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ২৬৭টি ড্রোন ছুড়েছে বলে জানা গেছে। এই ভয়াবহ হামলায় ইউক্রেনজুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
কিয়েভের কাছে বুচা জেলার একটি গুদামে শুক্রবার রাতে রুশ ড্রোন আঘাত হানে। হামলার পর গুদামে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এই আকস্মিক হামলায় অন্তত ২৭ জন নিহত এবং ৪২ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া হামলায় অন্তত ৫০টি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ৩৮০ জনের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
কিয়েভের কাছে বুচা জেলার ওই হামলায় হতাহতদের মধ্যে স্থানীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরাও রয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দিমিত্রিভস্কা গ্রামের মেয়র তারাস দিদিচ রয়েছেন। এছাড়াও তিমুর তকাচেঙ্কো ও সের্হি কোরেতস্কি এই পরিস্থিতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন। এই ঘটনায় ইউক্রেনের প্রসিকিউটররা ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছেন।
রাশিয়ার বিমানবাহিনীর পাশাপাশি ইউক্রেনের বিমানবাহিনীও এই সংঘাতে সক্রিয় রয়েছে। হামলার তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে কিয়েভের আশেপাশের দিমিত্রিভস্কা, মিলা ও ভিশনেভের মতো এলাকায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়েছে। ওদেসা এলাকায় হামলায় একজন নিহত হয়েছেন এবং বোরিসপিলে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরী নিহত হয়েছে।
এই হামলা ও হতাহতের ঘটনার পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, 'বিধিনিষেধ রয়েছে- আবাসিক এলাকা বা বাড়ির কাছে গোলাবারুদ সংরক্ষণ করা যায় না।' তার এই বক্তব্য সংঘাতপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তার প্রশ্নটিকে আরও জোরালো করেছে।
অন্যদিকে, শুধু ইউক্রেনেই নয়, রাশিয়ার ভেতরেও ইউক্রেনের পক্ষ থেকে পাল্টা ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। রাশিয়ার বেলগোরোদ অঞ্চলে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় অন্তত তিনজন নিহত ও নয়জন আহত হয়েছেন। এছাড়া ক্রিমিয়ার সেভাস্তোপলে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় আরও একজন নিহত ও তিনজন আহত হয়েছেন। সব মিলিয়ে উভয়পক্ষের এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতে পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল আকার ধারণ করেছে।








