ইউক্রেনে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কোটি কোটি বই ধ্বংস
ইউক্রেনে রাশিয়ার ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মুদ্রণালয় ও বই ধ্বংস হয়েছে। এর ফলে দেশটিতে ১ কোটি ২০ লাখ বই নষ্ট হয়েছে এবং ৩৫টির বেশি প্রকাশনা ও মুদ্রণ স্থাপনায় হামলা হয়েছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া
ইউক্রেনে রাশিয়ার অব্যাহত ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনা ঘটেছে। সম্প্রতি কিয়েভের উপকণ্ঠে অবস্থিত একটি মুদ্রণালয়ে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় স্কুল textbooks বা পাঠ্যবই ছাপার কাজ ধ্বংস হয়ে গেছে। এই হামলায় ইউক্রেনের শিক্ষা ও প্রকাশনা খাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
চলতি বছর ইউক্রেনে ছাপা হওয়া মোট বইয়ের এক-তৃতীয়াংশ ধ্বংস করেছে রাশিয়া। দেশজুড়ে রুশ হামলায় মোট ১ কোটি ২০ লাখ বই নষ্ট হয়েছে। ধ্বংস হওয়া বইয়ের মধ্যে ১৩ লাখ বই ছাপার কাজ চলছিল, যা ইউক্রেনের স্কুলগুলোর মোট পাঠ্যবইয়ের প্রায় ১০ শতাংশ। এসব হামলায় ইউক্রেনের শিক্ষা কার্যক্রম ও প্রকাশনা শিল্প বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে।
পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর যে, ইউক্রেনে গত কয়েক সপ্তাহে ৩৫টির বেশি প্রকাশনা ও মুদ্রণ স্থাপনায় হামলা হয়েছে। রাশিয়ার এসব হামলায় কেবল মুদ্রণালয় ও বই-ই ধ্বংস হয়নি, বরং ইউক্রেনের সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠানগুলোও বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়েছে। দেশটিতে এখন পর্যন্ত ২ হাজারের বেশি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান এবং ১ হাজার ৯০০-এর বেশি ঐতিহ্যবাহী নিদর্শন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।
এই ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ নিয়ে ভিক্টোরিয়া হাইদাই তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, রাশিয়া ইচ্ছা করেই এসব করছে বলে তিনি মনে করেন। গত দুই মাসে সবচেয়ে বড় কয়েকটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের সরবরাহকেন্দ্র হামলায় ধ্বংস হয়েছে এবং এসব সরবরাহকেন্দ্রে বিপুলসংখ্যক বই মজুত ছিল। তিনি আরও বলেন, ইউক্রেন জাতিকে ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা করেছে রাশিয়া, তাই ছাপাখানাগুলো ধ্বংস করছে তারা। তবে সত্যি বলতে, তারা সফল হবে না।
বই ধ্বংসের এই বেদনাবিধুর পরিস্থিতিতে লিলিয়া ভেলিকা দুঃখ প্রকাশ করে বলেছেন, বই আমাদের বাঁচিয়ে রাখে এবং এগুলো হারানো মানে আমাদের হৃদয় হারিয়ে ফেলার মতো। এছাড়া তেতিয়ানা বেরেজনা মন্তব্য করেছেন যে, রাশিয়া তাদের দীর্ঘদিনের ইতিহাসের প্রতীক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে।
এদিকে রুশ হামলার ধ্বংসস্তূপের মধ্যে পাওয়া একটি ইংরেজি ভাষার পাঠ্যবইয়ের পোড়া পৃষ্ঠায় লেখা ছিল, আমার নাম উইলিয়াম। আমার বাড়ি যুক্তরাজ্যে। আমার দাদি নটিংহামে থাকেন। এটি একটি সুন্দর শহর। এই সাধারণ বাক্যগুলোও যেন চলমান যুদ্ধের নির্মম বাস্তবতাকে ফুটিয়ে তুলেছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যে অবস্থিত রুশ দূতাবাস এই ধ্বংসযজ্ঞের অভিযোগের বিষয়ে দাবি করেছে যে, ইউক্রেন নিজেই নিজেদের পুরোনো স্মৃতিস্তম্ভ ধ্বংস করছে এবং সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলোকে সামরিক সরঞ্জাম লুকিয়ে রাখার কাজে ব্যবহার করছে। তবে ইউক্রেনীয় পক্ষ ও সংশ্লিষ্টরা এই হামলাকে ইউক্রেনীয় সংস্কৃতি ও ইতিহাস মুছে ফেলার একটি সুপরিকল্পিত চেষ্টা হিসেবেই দেখছে।
তথ্যসূত্র: প্রথম আলো ও চ্যানেল ২৪
আপনার প্রতিক্রিয়া