ইইডির প্রধান প্রকৌশলী পদ নিয়ে কর্মকর্তাদের দৌড়ঝাঁপ ও অনিয়ম
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ইইডি) প্রধান প্রকৌশলী পদটিকে কেন্দ্র করে কর্মকর্তাদের মধ্যে দৌড়ঝাঁপ ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী তারেক আনোয়ার জাহেদী আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে পিআরএলে যাবেন। এর মধ্যেই পদটি পেতে নানা আলোচনা ও বিতর্ক শুরু হয়েছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

ঢাকা, বাংলাদেশ — ১৮ আগস্ট ২০২৬ তারিখে প্রাপ্ত তথ্যানযায়ী, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ইইডি) প্রধান প্রকৌশলী পদটি নিয়ে কর্মকর্তাদের মধ্যে ব্যাপক দৌড়ঝাঁপ ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অধিদপ্তরের বর্তমান প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্বে রয়েছেন তারেক আনোয়ার জাহেদী এবং তিনি আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে পিআরএলে যাবেন। তাঁর এই অবসর গমনের সময় ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গেই পদটি দখল বা নিজেদের অনুকূলে নিতে তৎপর হয়ে উঠেছেন বিভিন্ন কর্মকর্তা।
এই প্রেক্ষাপটে আলোচনায় এসেছেন মো. জাহেদুল করীম, যিনি বর্তমানে রংপুর সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে চলতি দায়িত্বে রয়েছেন। তিনি একসময় আওয়ামী লীগ করতেন এবং বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের নেতা ছিলেন বলে তথ্য রয়েছে। এদিকে ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর পাঁচজন নির্বাহী প্রকৌশলীকে পদোন্নতি দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী করা হয়েছিল, যেখানে জাহেদুল করীম মেধা বা জ্যেষ্ঠতার তালিকায় চার নম্বরে অবস্থান করছিলেন।
নিজস্ব রাজনৈতিক পরিচয় ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে মো. জাহেদুল করীম নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। তিনি বলেন, 'আমি আওয়ামী লীগ করতাম, বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের নেতা ছিলাম, এটা সত্য। কিন্তু টেন্ডারে অনিয়ম-দুর্নীতি করিনি। আমার বিরুদ্ধে কোনো অনিয়মের অভিযোগ সত্য নয়।' এছাড়া যেহেতু তিনি বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের সদস্য, সেহেতু তাকে এ পদে দেওয়া হবে না বলে তিনি উল্লেখ করেন এবং তিনি নিজেই এমন কোনো প্রত্যাশা করছেন না বলে জানান। তিনি আরও বলেন, 'তাছাড়া আমার ওপরে সিনিয়র ১১ জন আছেন।'
জাহেদুল করীমের বিরুদ্ধে সাঈদ এন্টারপ্রাইজের মাধ্যমে অর্থ উত্তোলনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। জাগো নিউজ সূত্রে জানা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১১টি বিলে মোট দুই কোটি ৮০ লাখ ৫৫ হাজার ৭৬০ টাকা তুলেছে সাঈদ এন্টারপ্রাইজ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা বা অন্যান্য কাজের সূত্রে এই অর্থ উত্তোলনের বিষয়ে প্রশ্ন ওঠে।
সাঈদ এন্টারপ্রাইজকে কাজ দেওয়ার বিষয়ে জাহেদুল করীম সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, ওই প্রতিষ্ঠানকে তিনি নিজে কোনো কাজ দেননি। এ বিষয়ে তিনি বলেন, 'সাঈদ এন্টারপ্রাইজকে কাজ আমি দিইনি। কাজ অন্যরা দিয়েছে। হয়তো আমি বিল ছেড়েছি। কাজ ভালো হওয়ায় বিল আটকানোর সুযোগটা ছিল না।'
শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট মহলে এই পরিস্থিতি নিয়ে কঠোর সতর্কতা জারি করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তি আবদুল খালেক সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জায়গা এবং সেখানে কোনো ধরনের অস্থিরতা চলতে দেওয়া হবে না। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, কর্মকর্তারা কেউ যদি নিজের কাজ ফেলে তদবিরবাজি করে বেড়ান, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আবদুল খালেক আরও স্পষ্ট করে বলেন, ফ্যাসিস্ট আমলে সুবিধাভোগীদের বিষয়ে সরকারের অবস্থান কঠোর। তিনি বলেন, 'এ ধরনের সুযোগ নেই। যারা ফ্যাসিস্ট আমলে সুবিধাভোগী ছিলেন, তাদের নতুন করে বাড়তি সুবিধা দেওয়া হবে না।' সব মিলিয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের এই পদোন্নতি ও পদায়ন প্রক্রিয়া ঘিরে বর্তমানে তীব্র উত্তেজনা ও নজরদারি বজায় রয়েছে।








