আয়ারল্যান্ডকে একীভূত দেখতে চান ট্রাম্প, মিশ্র প্রতিক্রিয়া
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আয়ারল্যান্ডকে একীভূত দেখতে চাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তাঁর এই মন্তব্যের পর উত্তর আয়ারল্যান্ড ও সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে বিভিন্ন মহล থেকে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সম্প্রতি আয়ারল্যান্ডকে একীভূত দেখতে চাওয়ার মন্তব্য করেছেন। গত বুধবার আয়ারল্যান্ড ও উত্তর আয়ারল্যান্ড সংশ্লিষ্ট এই বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়। তাঁর এই মন্তব্যের পর স্থানীয় রাজনীতিতে বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে।
সাক্ষাৎ ও বৈঠকের অংশ হিসেবে ট্রাম্প আয়ারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট ক্যাথরিন কনলির সঙ্গে দেখা করেছেন। এই সাক্ষাতের সময় দুই নেতার মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয় বলে জানা গেছে। তবে ট্রাম্পের একীভূত আয়ারল্যান্ড গঠনের বিষয়টি বিশেষভাবে নজর কেড়েছে।
নিজের মন্তব্যের ব্যাখ্যায় ট্রাম্প বলেছেন, 'আমি কোনো ঝামেলা তৈরি করতে চাই না। কিন্তু আপনাদের বলছি, আমি আয়ারল্যান্ডকে একীভূত দেখতে চাই। একদিন না একদিন এটা হবেই... আমার মনে হয়, এটা খুবই সুন্দর একটা ব্যাপার হবে।' তাঁর এই বক্তব্যের মাধ্যমে আয়ারল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের একটি দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ পেয়েছে।
ট্রাম্পের এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ ও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ডিইউপি। দলটির নেতা গ্যাভিন রবিনসন ট্রাম্পের বক্তব্যের জবাবে স্পষ্ট করে বলেছেন, 'উত্তর আয়ারল্যান্ডের ভবিষ্যৎ ট্রাম্প ঠিক করবেন না। সেখানকার জনগণই ঠিক করবে।' তাঁর এই বক্তব্যে স্থানীয় জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকারের বিষয়টি জোরালোভাবে উঠে এসেছে।
উল্লেখ্য, ১৯৯৮ সালের গুড ফ্রাইডে চুক্তি অনুযায়ী উত্তর আয়ারল্যান্ড যুক্তরাজ্য থেকে বেরিয়ে যাওয়ার গণভোট ডাকার ক্ষমতা ব্রিটিশ সরকারের হাতে রয়েছে। এই ঐতিহাসিক চুক্তির মাধ্যমে 'দ্য ট্রাবলস' নামের প্রায় তিন দশকের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘটেছিল। ফলে বর্তমান রাজনৈতিক ও আইনি কাঠামোর বাইরে গিয়ে একক কোনো মন্তব্য বা সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা যে সহজ নয়, তা এই চুক্তির মাধ্যমেই নির্ধারিত রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এ ধরনের মন্তব্য আয়ারল্যান্ড ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। তবে গুড ফ্রাইডে চুক্তির শর্তাবলি এবং স্থানীয় রাজনৈতিক দলগুলোর কঠোর অবস্থানের কারণে এই বিষয়ের বাস্তবায়ন সম্পূর্ণভাবে সেখানকার জনগণের সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভরশীল রয়ে গেছে।








