আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে অগ্রগতি, সাক্ষরতায় বড় ব্যবধান
বাংলাদেশে ব্যাংক হিসাব ও মোবাইল আর্থিক সেবার ব্যবহার বাড়লেও আর্থিক সাক্ষরতার হার এখনো বেশ কম। সাধারণ সাক্ষরতার তুলনায় আর্থিক সাক্ষরতার এই ব্যবধান দেশের অর্থনীতিতে বড় এক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১৩· ১ মিনিট পড়া

বাংলাদেশে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি এবং আর্থিক সাক্ষরতার মধ্যে একটি বড় ধরনের ব্যবধান লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দেশের অর্থনীতিতে বিভিন্ন সেবার প্রসার ঘটলেও সাধারণ সাক্ষরতা ও আর্থিক সাক্ষরতার হারের ব্যবধান এই খাতের বাস্তব চিত্রকে নতুন করে সামনে এনেছে। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য ও পরিসংখ্যানে এই বৈষম্যের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে সাধারণ সাক্ষরতার হার প্রায় ৭৭ শতাংশ। অথচ এর বিপরীতে দেশের আর্থিক সাক্ষরতার হার মাত্র ২৮ শতাংশ। এই দুই সূচকের বড় ফারাক প্রমাণ করে যে, সাধারণ শিক্ষায় মানুষ এগিয়ে থাকলেও আর্থিক ব্যবস্থাপনার জ্ঞান বা সাক্ষরতার ক্ষেত্রে দেশের একটি বড় অংশ পিছিয়ে রয়েছে।
আর্থিক অন্তর্ভুক্তির অন্যান্য সূচকের দিকে তাকালে দেখা যায়, দেশের ৫৩ শতাংশের বেশি মানুষের ব্যাংক হিসাব রয়েছে। এরপরেও প্রায় ৩ কোটি মানুষ আজও আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে রয়ে গেছে। ব্যাংকিং সেবার বাইরে থাকা এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে মূলধারার আর্থিক সেবার আওতায় আনা একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
অন্যদিকে, দেশে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) ব্যবহার অত্যন্ত দ্রুতগতিতে বাড়ছে। বর্তমানে বাংলাদেশে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের গ্রাহকসংখ্যা প্রায় ২৩ কোটি ৯৩ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। ব্যাংকিং খাতের বাইরে থাকা মানুষের একটি বড় অংশ এই মোবাইল সেবার ওপর নির্ভর করছে।
আর্থিক অন্তর্ভুক্তি এবং সাক্ষরতার এই সামগ্রিক চিত্রে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও দেশীয় সংস্থার পাশাপাশি অর্থনীতি ও সমাজ নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের নাম এবং তত্ত্বের প্রসঙ্গও নানা সময় আলোচনায় আসে। এই তালিকায় রয়েছে অ্যাডাম স্মিথ, ইরভিং ফিশার, মিল্টন ফ্রিডম্যান, বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্كلিন, রবার্ট কিয়োসাকি এবং মরগান হাউসল-এর মতো নাম। পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংক, বিশ্বব্যাংক, ওইসিডি (OECD), বিএসইসি এবং আইডিআরএ-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ সংস্থাগুলোর কার্যক্রমও এই খাতের সাথে জড়িত।
আঞ্চলিক পর্যায়ে তুলনা করলে দেখা যায়, দক্ষিণ এশিয়ায় আর্থিক সাক্ষরতার হারে দেশগুলোর মধ্যে ভিন্নতা রয়েছে। এই অঞ্চলে ভারতের আর্থিক সাক্ষরতা ২৭ শতাংশ, পাকিস্তানের ২৬ শতাংশ এবং শ্রীলঙ্কার সাক্ষরতার হার ৫৭ দশমিক ৯ শতাংশ। অন্যদিকে, স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশগুলোতে আর্থিক সাক্ষরতার হার অনেক বেশি, যা প্রায় ৭১ শতাংশ।
দেশের ভেতরে আর্থিক সেবার ব্যবহারে লিঙ্গভিত্তিক ব্যবধানও দৃশ্যমান। প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে প্রায় ৬৩ শতাংশ পুরুষ আনুষ্ঠানিক আর্থিক সেবার আওতায় রয়েছেন, যেখানে নারীদের ক্ষেত্রে এই হার সাড়ে ৪৩ শতাংশের মতো। এছাড়া দেশের পুঁজিবাজারে যারা বিনিয়োগ করেন, সেই খুচরা বিনিয়োগকারীদের প্রায় ৭০ শতাংশের বয়সই ৪৫ বছরের নিচে। এই সমস্ত পরিসংখ্যান সামগ্রিকভাবে দেশের আর্থিক খাতের বর্তমান অবস্থাকে তুলে ধরে।








