আনসার ভিডিপি ব্যাংকের ১ হাজার কোটি টাকার কৃষি ঋণ তছরুপ
বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ৪ শতাংশ সুদে নেওয়া ১ হাজার কোটি টাকার কৃষি ঋণ তহবিল অন্য খাতে বিতরণ করেছে আনসার ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক। এ অনিয়মের ঘটনায় ব্যাংকটির কাছে হিসাব ও বিবরণী চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে কৃষি খাতের জন্য বরাদ্দকৃত ১ হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ তহবিল অপব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে আনসার ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের বিরুদ্ধে। কৃষি খাতে কম সুদে ঋণ বিতরণের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টিতে এই তহবিলটি ব্যাংকটিকে প্রদান করেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কিন্তু শর্ত ভঙ্গ করে সেই অর্থ কৃষি খাতে না দিয়ে অন্যান্য খাতে উচ্চ সুদে বিতরণ করা হয়েছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক পরিদর্শনে উঠে এসেছে।
১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত আনসার ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের প্রায় ৬১ লাখ আনসার সদস্য রয়েছে। এই বিশাল সদস্যগোষ্ঠীর কল্যাণে এবং দেশের কৃষি উৎপাদন বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ৪ শতাংশ সুদে ১ হাজার কোটি টাকার প্রাক অর্থায়ন তহবিল নেওয়া হয়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী, যে খাতের জন্য প্রাক অর্থায়ন নেওয়া হবে, অবধারিতভাবে সেই খাতের জন্যই তা বিতরণ করতে হবে।
তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিদর্শন প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত এই তহবিলের প্রকৃত কৃষি ঋণ স্থিতি ৩৫০ কোটি টাকার ওপরে ছিল না। অর্থাৎ, বিশাল অঙ্কের এই তহবিলের একটি বড় অংশই কৃষির বাইরে অন্যত্র ব্যবহার করা হয়েছে, যা বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে করা চুক্তির স্পষ্ট লঙ্ঘন।
এই অনিয়মের বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। গত ১৬ আগস্ট আনসার ভিডিপি ব্যাংককে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ওই চিঠিতে ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৩ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সময়ের বিভিন্ন খাতের হিসাব ও সার্বিক বিষয়বস্তুর বিবরণী তলব করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা Arif Hossain Khan (আরিফ হোসেন খান) স্পষ্ট ভাষায় বলেন, 'যে খাতের জন্য প্রাক অর্থায়ন নেওয়া হবে, সেই খাতে বিতরণ করতে হবে। এক খাতের নামে অর্থ নিয়ে আরেক খাতে ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই। এটা বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে শর্তভঙ্গ। শর্তভঙ্গের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
উল্লেখ্য, এই বিশেষ কৃষি ঋণের বিপরীতে সরকার এর আগে রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টি বা জামিনের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৯ সালের ১৫ আগস্ট পর্যন্ত করেছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকও এই তহবিলের মেয়াদ সে অনুযায়ী বর্ধিত করেছিল। কিন্তু নির্ধারিত এই দীর্ঘমেয়াদি সুবিধার অপব্যবহার করে তহবিলটি অন্য খাতে সরিয়ে নেওয়ায় এখন এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে নিয়মানুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।








