আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর দেশব্যাপী বিশেষ হাম টিকাদান কর্মসূচি শুরু
দেশে হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে দেশব্যাপী বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। প্রায় ৩০ লাখ শিশুকে নতুন করে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

বাংলাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে রাখতে নতুন করে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি ঘোষণা করেছে সরকার। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও জাতিসংঘের শিশু তহবিল ইউনিসেফের মধ্যে সম্প্রতি একটি ভার্চুয়াল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই বৈঠকের ধারাবাহিকতায় আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর সারাদেশে একযোগে এই বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে হামের পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সরকার আবারও এই বিশেষ কার্যক্রমে যাচ্ছে। হামের প্রকোপ সারাদেশে চলমান থাকায় নতুন করে টিকা সংগ্রহ করা হয়েছে। বর্তমানে সরকারের হাতে ১৬ লাখ টিকা রয়েছে। এই কর্মসূচির আওতায় প্রায় ৩০ লাখ শিশুকে নতুন করে হামের টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর আগে চলতি বছরের মার্চ মাসেও দেশে হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি হাতে নিয়েছিল সরকার। সে সময় ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী এক কোটি ৮০ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। সেই লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ১০৩ শতাংশ শিশুকে টিকার আওতায় আনা সম্ভব হয়েছিল বলে জানানো হয়। অন্যদিকে, জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল দুই কোটি ২৬ লাখ। এই দুই কর্মসূচির লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে ব্যবধান ছিল প্রায় ৪৬ লাখ।
বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট মহলের কর্মকর্তারা বলছেন, দেশে প্রতিদিন হাজারখানেক রোগীর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লাইন ডিরেক্টর কামরুজ্জামান চৌধুরী এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্মকর্তা সরদার সাখাওয়াত হোসেনের বক্তব্য অনুযায়ী, হাম পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় সরকার আবারও বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইনে যাচ্ছে।
সরদার সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, হামের প্রকোপ সারাদেশে চলমান থাকায় নতুন করে টিকা সংগ্রহ করা হয়েছে এবং আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর সারাদেশে একযোগে এই টিকাদান কর্মসূচি শুরু হবে। এতে প্রায় ৩০ লাখ শিশুকে নতুন করে টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বিশেষজ্ঞরা বর্তমান পরিস্থিতিকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে দেখছেন। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বে-নজীর আহমদ বলেছেন, বাংলাদেশে হামের বর্তমান পরিস্থিতি নজিরবিহীন। টিকাদানে ঘাটতি এবং চিকিৎসাব্যবস্থার অব্যবস্থাপনার কারণে সংক্রমণ ও মৃত্যু বাড়ছে। তিনি আরও জানান, হামে আক্রান্ত শিশুদের স্বাস্থ্য জটিলতা ও মৃত্যুর হার বাড়ার পেছনে বড় একটি কারণ রোগ প্রতিরোধ স্মৃতির অবলুপ্তি।
বে-নজীর আহমদ বিস্তারিত ব্যাখ্যা করে বলেন, হামের ভাইরাস শিশুর রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার স্মৃতিকোষের প্রায় ৭৩ শতাংশ ধ্বংস করে দিতে পারে। এর ফলে হাম থেকে সাময়িকভাবে সুস্থ হয়ে উঠলেও শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে এবং পরবর্তী কয়েক মাস সাধারণ সংক্রমণেও শিশুর অসুস্থতা ও মৃত্যুর ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যেতে পারে।








