অস্ট্রেলিয়ায় বিদ্যุด উৎপাদনে গ্যাসের জায়গা নিচ্ছে ব্যাটারি
অস্ট্রেলিয়ায় সন্ধ্যার চরম চাহিদার সময়ে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এর পরিবর্তে ব্যাটারির ব্যবহার দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় পাইকারি বিদ্যুতের দামও হ্রাস পেয়েছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৬:১৭· ১ মিনিট পড়া

অস্ট্রেলিয়ায় সন্ধ্যার বিদ্যুৎ চাহিদার সময় গ্যাসভিত্তিক উৎপাদনের ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। ২০২৬ সালের আগস্ট মাসে দেশটির গ্রিডের সন্ধ্যার রূপান্তর প্রক্রিয়ায় ব্যাটারির ব্যবহার এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে। অস্ট্রেলীয় শক্তি বাজার অপারেটর বা এএমও-এর ত্রৈমাসিক উপাত্ত অনুযায়ী, গ্যাস উৎপাদন দুই দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন দ্বিতীয় ত্রৈমাসিক গড় রেকর্ড করেছে।
এনার্জি এজ-এর জশ স্টেবলার অস্ট্রেলিয়ায় ব্যাটারি স্থাপনের এই অভূতপূর্ব গতি সম্পর্কে মন্তব্য করে বলেছেন, অস্ট্রেলিয়ায় ব্যাটারি ইনস্টল করার হার যেকোনো বিদ্যুৎ সম্পদের তুলনায় ইতিহাসের সবচেয়ে দ্রুততম গ্রহণ—এটি সোলার বা বাতাসের চেয়েও দ্রুতগতির। তিনি আরও যোগ করেন যে, ব্যাটারিগুলো সন্ধ্যার চরম সময়টি দখল করে নিয়েছে এবং তারা তা আর ফেরত দেবে না।
২০২৬ সালের আগস্ট মাসে প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, সন্ধ্যার ওই সময়টিতে গ্রিডের ডিসপ্যাচযোগ্য বা তাৎক্ষণিকভাবে সরবরাহযোগ্য বিদ্যুতের চাহিদার ৪৯ শতাংশ পূরণ করেছে ব্যাটারি। অথচ ২০২০ সালের আগস্ট মাসে এই হার ছিল মাত্র শূন্য দশমিক চার শতাংশ। অর্থাৎ গত কয়েক বছরে এই খাতে ব্যাটারির ভূমিকা বিশাল পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে।
সন্ধ্যা ৫টা থেকে রাত ৮টার মধ্যে এই ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে গ্যাসের ব্যবহার নাটকীয়ভাবে হ্রাস পেয়েছে। আগস্ট পর্যন্ত এক বছরে এই সময়ে গ্যাস উৎপাদন ৬৭ শতাংশ কমে গেছে। একই তুলনামূলক সময়ের ব্যবধানে গ্যাসভিত্তিক উৎপাদনের অংশীদারিত্বও ৬৭ শতাংশ থেকে কমে ২০ দশমিক ছয় শতাংশে নেমে এসেছে।
অস্ট্রেলিয়ান এনার্জি মার্কেট অপারেটর বা এএমও-এর দেওয়া ত্রৈমাসিক উপাত্তে এই চিত্র আরও স্পষ্ট হয়েছে। সেখানে দেখা গেছে যে, গ্যাসের ওপর নির্ভরতা কমার পাশাপাশি পাইকারি বিদ্যুতের দামও সামগ্রিকভাবে হ্রাস পেয়েছে। এই পরিবর্তন অস্ট্রেলিয়ার জ্বালানি খাতের রূপান্তরে একটি বড় ভূমিকা পালন করছে।
গ্রাটান ইনস্টিটিউটের অ্যালিসন রিভসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থা এই পুরো প্রক্রিয়াটি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তবে জশ স্টেবলারের করা মন্তব্য অনুযায়ী, বর্তমান বিদ্যুৎ বাজারে যেভাবে ব্যাটারির বিস্তার ঘটছে, তাতে ভবিষ্যতে ঐতিহ্যগত গ্যাসভিত্তিক উৎপাদনের ভূমিকা আরও সীমিত হয়ে পড়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।








