জাতীয় সংসদে ব্যাটারিচালিত রিকশার প্রভাব নিয়ে আলোচনা
গতকাল সোমবার ঢাকার বাংলাদেশ সংসদে ব্যাটারিচালিত রিকশার প্রভাব এবং এর ফলে বিদ্যুৎ, ট্রাফিক ও পরিবেশের ওপর পড়া নানা দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট, রাজস্ব ক্ষতি এবং সড়ক দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

গতকাল সোমবার রাজধানী ঢাকার বাংলাদেশ সংসদে ব্যাটারিচালিত রিকশা এবং এর প্রভাব নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এই আলোচনায় যানবাহনের কারণে বিদ্যুৎ, ট্রাফিক ব্যবস্থা ও পরিবেশের ওপর যে প্রভাব পড়ছে, তা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়। সংসদে এ বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য ও পরিসংখ্যান উপস্থাপন করা হয়।
আলোচনায় জানানো হয়, সারা দেশে বর্তমানে আনুমানিক ৫০ থেকে ৮০ লাখ তিন চাকার বৈদ্যুতিক যান চলাচল করছে। এসব যানের দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা মোট জাতীয় বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ৫ শতাংশ বা তার বেশি। প্রতিদিন রিকশা চার্জিংয়ের পেছনে প্রায় ১০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে।
বৈঠকে চার্জিং পয়েন্টের বিশৃঙ্খল চিত্রও উঠে আসে। দেশে ৩ হাজার ৩০০টি অনুমোদিত চার্জিং পয়েন্ট থাকলেও শুধু ঢাকাতেই অনুমোদিত বা অবৈধ চার্জিং পয়েন্টের সংখ্যা ৪৮ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহারের কারণে সরকার প্রতি বছর প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে।
সড়ক নিরাপত্তার বিষয়টি তুলে ধরে জানানো হয়, ২০২৫ সালে দেশে ৬ হাজার ৭২৯টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। এসব দুর্ঘটনায় ৯১১ জন নিহত এবং ১৪ হাজার ৮১২ জন আহত হন। এর মধ্যে ১৩ দশমিক ৫৪ শতাংশ সড়ক দুর্ঘটনার সাথেই ব্যাটারিচালিত রিকশা জড়িত ছিল।
সংসদে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রেহানা আক্তার রানু বলেন, 'রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর ট্রাফিক ক্যামেরা স্থাপনের পর লালবাতি অমান্য, লেন পরিবর্তন ও নির্ধারিত গতিসীমা লঙ্ঘনের মতো অনিয়ম কমেছে। কিন্তু ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা এখনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে বেপরোয়া চলাচল করছে। এসব যানবাহনের নম্বর প্লেট না থাকায় এআই ক্যামেরায় শনাক্ত হলেও জরিমানা করা সম্ভব হচ্ছে না।'
তিনি আরও বলেন, 'বর্তমানে বিপুলসংখ্যক অটোরিকশা চলাচলের পাশাপাশি ঢাকায় প্রতিদিন আরও প্রায় ৩০০টি অটোরিকশা যুক্ত হচ্ছে।' তবে তিনি স্পষ্ট করে জানান যে, 'তিনি অটোরিকশা চলাচল নিষিদ্ধ করার কথা বলেননি। বরং চলাচল নিয়ন্ত্রণের কথা বলেছেন।'
ঢাকায় ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার বিষয়ে জানানো হয়, বর্তমানে ঢাকার ১৭টি সিগন্যালে ৫০টি এআই-ভিত্তিক ক্যামেরা সচল রয়েছে। এছাড়া রমনা ও তেজগাঁও ট্রাফিক বিভাগে আরও ২০০টি এআই-ভিত্তিক ক্যামেরা বসানোর কাজ চলছে। প্রসঙ্গত, সরকার বর্তমানে ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি নীতিমালা তৈরি করছে, যার মধ্যে কিউআর কোড, নম্বর প্লেট এবং চালকের লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।








